
ময়মনসিংহ বাটি বারেরায় শ্রবণ প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ৪ বছর ধরে ধর্ষণ, বিচার দাবিতে উত্তাল এলাকাবাসী
ব্যুরো চীফ, ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহ সদর ভাটি বারেরা ১১ নং ঘাগড়া ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক শ্রবণ প্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৭) টানা চার বছর ধরে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই পাশবিকতার শিকার হয়ে ওই কিশোরী দুইবার গর্ভবতী হলে স্থানীয়ভাবে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত করানো হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বাটি বারেরা গ্রামে বসবাসকারী ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীকে প্রায় চার বছর আগে থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল একই এলাকার এক প্রভাবশালী যুবক মামুন। কিশোরীটি বিভিন্ন সময় একা পেয়ে ধর্ষণ করা হয়।
দীর্ঘ চার বছরে ওই কিশোরী দুইবার গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত যুবক মামুন ও তার সহযোগীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে তার গর্ভপাত ঘটায়। সম্প্রতি কিশোরীটি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং পরিবারের কাছে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় মাতবররা ঘটনাটি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করলেও কিশোরীর পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে এবং ন্যায়বিচারের আশায় ময়মনসিংহ সদর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
ঘটনার জানাজানির পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি অসহায় প্রতিবন্ধী মেয়ের সাথে চার বছর ধরে এমন অন্যায় করা হয়েছে, ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি চাই।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের কারণে যেন এই পাশবিক ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়।
তারা দ্রুত অপরাধীকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply