1. admin@durnitirtalashteam.com : durnitirtalashteam :
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
October 24, 2026, 11:52 pm

গণপূর্তে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ: প্রকৌশলী ফয়জুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়ম, তদন্তের দাবি

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, March 29, 2026
  • 113 Time View

গণপূর্তে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ: প্রকৌশলী ফয়জুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়ম, তদন্তের দাবি

ব্যুরো চীফ, ময়মনসিংহ।।

সরকারি উন্নয়ন কাজের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা মহাখালী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এইচ.এম. ফয়জুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে ভুয়া বিল তৈরি, অসমাপ্ত কাজের বিপরীতে অর্থ উত্তোলন, দরপত্রে কারসাজি, কমিশন বাণিজ্যসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ জমা পড়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি ভবনের উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ বাস্তবে সম্পূর্ণ না হলেও কাগজে-কলমে তা সম্পন্ন দেখিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিল উত্তোলন করা হয়েছে। প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং দাপ্তরিক প্রতিবেদনের মধ্যে ছিল বিস্তর ফারাক। অভিযোগ রয়েছে, জাল ভাউচার ও মিথ্যা অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরি করে কোটি কোটি টাকার বিল ছাড় করা হয়েছে।

দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টিও উঠে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক দরপত্র আহ্বানের আগেই কাজ শুরু করে পরে ওটিএম (ওভার দ্য কাউন্টার মেথড) পদ্ধতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়ে সরকারের আর্থিক ক্ষতি এবং স্বচ্ছতার অভাব তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া বকেয়া বিল ছাড় করতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অর্থবছরের শেষ সময়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বড় অঙ্কের বিল অনুমোদনের মাধ্যমে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জুলাই মাসে সংঘটিত সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু সরকারি স্থাপনার সংস্কার কাজ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দরপত্র আহ্বানের আগেই কাজ শুরু করে পরে ওটিএম পদ্ধতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন আদায়ের কথাও অভিযোগে উঠে এসেছে।

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্পদ অর্জন। জানা গেছে, রাজধানীর গুলশান, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও বসুন্ধরা এলাকায় তার ও তার স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি ও প্লট রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের এফডিআর এবং বিদেশে অর্থ পাচারের গুঞ্জনও রয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ফয়জুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
এ প্রসঙ্গে সুশাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তা শুধু একজন কর্মকর্তার অনিয়ম নয়, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রতিফলন। তাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে কার্যকর তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিকল্প নেই।

বর্তমানে অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং সত্যতা যাচাইয়ের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের। জনস্বার্থে উন্নয়ন ব্যয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি