
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জমি ও ঘরের বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মা, তাঁর বড় ছেলে ও পুত্রবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ছেলে মোঃ শহীদ মিয়া ও পুত্রবধূ মোছাঃ নুর নাহার বেগমের বিরুদ্ধে পলাশবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বৃদ্ধা মোছাঃ সুফিয়া বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ৯ নম্বর হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালুক জামিরা গ্রামের বাসিন্দা সুফিয়া বেগম (৭০)। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, তাঁর ছেলে শহীদ মিয়া (৪০) ও পুত্রবধূ নুর নাহার বেগম (৩৬) দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। এ ছাড়া তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়া এবং পরবর্তীতে জমির কিছু অংশ বড় ছেলেকে লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে সুফিয়া বেগম আরও উল্লেখ করেন, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে তাঁর ক্রয়কৃত টিন দিয়ে ছেলে শহীদ মিয়া নতুন ঘরের বেড়া নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং ঘরের কাজে ব্যবহৃত কাঠ দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাকে রক্ষা করতে তাঁর বড় ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪৬) ও পুত্রবধূ মোছাঃ লাকি বেগম (৪২) এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সুফিয়া বেগম। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিরা জখম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া অভিযুক্তরা তাঁদের গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও অভিযুক্তরা তা মানেননি বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ লিচু মিয়া ও মোছাঃ জেলেখা খাতুনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের পাশাপাশি আরও স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
সুফিয়া বেগম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তরা যেকোনো সময় তাঁর ও তাঁর বড় ছেলের পরিবারের আরও ক্ষতি করতে পারেন। এ কারণে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে পলাশবাড়ী থানা পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি জানা গেলে সংবাদটি হালনাগাদ করা যাবে।
সংবাদ সূত্র: অভিযোগকারীর লিখিত অভিযোগ। অভিযোগের বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
Leave a Reply