
গাইবান্ধায় নলকূপ প্রকল্পে দুর্নীতি। ব্যয়ের চাপে উপকারভোগী। তথ্য পেতে ৪৩ হাজার ৬৭৩ টাকা দাবি!
মোনায়েম মন্ডলঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় নলকূপসহ বিভিন্ন প্রকল্প বিতরণ ও স্থাপন কার্যক্রমে ব্যাপক, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারিভাবে প্রতিটি নলকূপের সঙ্গে ২৫০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ সরবরাহের কথা থাকলেও কোনো কোনো উপকারভোগীকে দেয়া হয়েছে মাত্র ১৬০ ফুট। ১৬০ ফুট পাইপের পর বাকি পাইপ ও নলকূপ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে উপকারভোগীকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, গাইবান্ধা সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রকল্পের বরাদ্দ, পাইপ সরবরাহ ও বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনে গত ১৭ সেপ্টেম্বর’ ২০২৬ ইং তারিখে রেজিঃ ডাক যোগে আবেদন করা হলে ধুরন্ধর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমির হোসেন গত ৭ অক্টোবর’২০২৬ ইং তারিখে ৪৬.০৩.৩২২৪.৪০১.১৬. ০০১.২৬-৩৬০ স্মারকমুলে তথ্য মুল্য বাবদ মনগড়া ২০ হাজার ৮৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। এতে ধুরন্ধর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমির হোসেনের বিরুদ্ধে কৌশলে তথ্য সরবরাহ না করার কারণে সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তথ্য সরবরাহের খরচ নির্ধারণের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এখানে উল্লেখ্য যে, তথ্য অধিকার আইনে তথ্য/ডকুমেন্ট সমুহ আবেদনে ফটোকপি চাওয়া হয়েছে। কিন্তু ধুরন্ধর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমির হোসেন তথ্য সরবরাহের জন্য তথ্য ডাউনলোড ও প্রতিকপি ১০/- হারে প্রিন্ট করার মুল্য বাবদ পরিশোধের জন্য উল্লেখিত মনগড়া ২০ হাজার ৮শ ৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলেন। এ ব্যাপারে বাটপার প্রকৃতির ও অত্যন্ত ধুরন্ধর ব্যক্তি উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমির হোসেনের বিরুদ্ধে কাগজ কলমে কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে। কারণ, যদি প্রকল্পসমূহ আগে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে তথ্য/ডকুমেন্ট ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে সরবরাহ করার কথা বলার রহস্য কি? কারণ- প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা। আর তথ্য অধিকার আইনের আওতায় উল্লেখিত তথ্য/ডকুমেন্টের ফটোকপি চেয়েছেন এবং পূর্বেই তা ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার কথা। তাহলে তথ্য/ডকুমেন্ট ডাউনলোড ও প্রিন্ট করার বিষয়টি ধুরন্ধর আজমির হোসেন কোথায় পেয়েছেন। যা তথ্য চাওয়া আবেদনের কপি যাচাই করলে দুর্নীতির দোসর আজমির হোসেনের দুর্নীতির নীল নকশা বেড়িয়ে আসবে।
অপরদিকে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় তথ্য অধিকার আইনের আওতায় একই ধরনের তথ্য চেয়ে আবেদন করা হয়। তাদের মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার জনস্বাস্থ্য বিভাগের চোরে চোরে মাসতাতো ভাইয়ের মত আরেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও দুর্নীতির কারিগর মোঃ রাসেল মিয়া একই তথ্য/ডকুমেন্টের মুল্য বাবদ ৪৩ হাজার ৬’শ ৭৩ হাজার টাকা প্রদানের জন্য গত ৭ অক্টোবর’ ২০২৬ ইং তারিখে স্মারক নং ৪৬.০৩.৩২২১.৩০১.০২.০০২.২৪- ১৪১ এবং সুন্দরগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ খোকন রানা কর্তৃক স্মারক নং ৪৬.০৩.৩২৯১.৪০১.৯৯. ১৫৯.২৫-১০৮ পত্রে ২৯ সেপ্টেম্বর’ ২০২৬ ইং তারিখে ১ হাজার ৮’শ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার জন্য উক্ত সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী বরাবর পত্র প্রেরণ করেন।
সুত্র জানায়, তথ্য চেয়ে যে ব্যক্তি আবেদন করেছিলেন, তিনি গতকাল আবেদন পত্র গুলো দেখিয়ে বলেন, আমি একই আবেদনপত্রে শুধুমাত্র হেড পরিবর্তন করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের তথ্য মুল্য চাওয়ার কাহিনী শুনলে যে কেউ আশ্চর্য হবেন। কারণ- উল্লেখিত প্রকৌশলীগণ আমার কাছে যে তথ্য মুল্য চেয়েছেন, তারা তা পরিকল্পিত ও মনগড়া ভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি। যাতে আমার তথ্য চাওয়ার সখ মিটে যায়! তাই উল্লেখিত অফিস সমুহ কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত কার্যক্রম সমুহ সরেজমিনে তদন্তের পাশাপাশি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় তথ্য চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাদের চাতুরিপণা ও নাটকীয়তার মুখোশ উন্মোচন করা দরকার।
সুত্র আরো জানায়, প্রতিটি নলকূপের সাথে হেড, পাঁচ ফুট স্টিল পাইপ, ২৫০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ ও ফিল্টার পাইপ সরবরাহ এবং অধিদপ্তরের নিয়োগপ্রাপ্ত মেকানিকের মাধ্যমে উক্ত নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে কত ফুট পাইপ সরবরাহ করা হয়েছে, কোন নীতিমালা বা কার্যাদেশের ভিত্তিতে পাইপের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কোনো ঘাটতি থাকলে তার কারণ কী—এসব বিষয়ে তাদের তথ্য মুল্যের নাটকীয়তার কারণে পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, নির্ধারিত ২৫০ ফুট পাইপের পরিবর্তে কোনো কোনো উপকার ভোগীকে ১৬০ ফুট পাইপ সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় গভীরতায় পানি পেতে অতিরিক্ত পাইপ, শ্রমিক ও স্থাপন ব্যয়ের প্রয়োজন হলে সেই খরচ উপকারভোগীদের কাছ থেকে কৌশলে আদায় করা হয়েছে।
অভিযোগ কারীদের দাবি, উক্ত ধুরন্ধর উপ-সহকারী প্রকৌশলীগণ কর্তৃক মেকানিকদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের বলা হয়, কাজ চলাকালে শ্রমিকদের দুপুরের খাবারসহ আপ্যায়নের খরচ দিতে হবে।
পাশাপাশি একদিনের কাজের মজুরি বাদ দিয়ে বাকি দিনগুলোতে প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ টাকা, কোথাও কোথাও ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে বলা হয়। এভাবে ১০ থেকে ২০ দিন কাজ চললে উপকারভোগীদের ব্যয় বাবদ ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।
তবে সুত্র জানায়, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিশেষ করে আয়রন/আর্সেনিক মুক্ত পানির সমস্যা সমাধান করা। কিন্তু নলকূপ বরাদ্দ পাওয়ার পর বিশেষ করে উল্লেখিত ধুরন্ধর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমির হোসেন যোগদানের পর সুকৌশলে উপকার ভোগীদের কাছ থেকে নলকুপ স্থাপন সম্পন্ন করতে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।
সুতরাং প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধা কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, সে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এমতাবস্থায় কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ধান্দাবাজী অব্যাহত থাকায় দরিদ্র ও সীমিত আয়ের পরিবার গুলো ব্যাপক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই প্রকল্পের অনুমোদিত বরাদ্দ, পাইপ সরবরাহ, স্থাপন ব্যয় এবং উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
একই সাথে উক্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের হাবিবা সুলতানা নামের একজন সুন্দরী নারী মেকানিকের ভুমিকা নিয়ে সচেতন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। উক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজমির হোসেনও এদের কানকথা বেশি শুনে থাকেন এবং আহসান হাবিব নামের আরেক মেকানিকও তাদের কানকথার সাথে যুক্ত থাকার গুঞ্জন উঠেছে! যার বিস্তারিত বিবরণ তথ্য যাচাই সাপেক্ষে প্রকাশ করা হবে।
তাই এলাকার সচেতন জনগণের মতে, পৃথিবীর সকল শ্রেণিপেশার মানুষ সুন্দরের পুজারি হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা ঘটার আগেই উল্লেখিত ধুরন্ধর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজমির হোসেন, মেকানিক হাবিবা সুলতানা ও আহসান হাবিবের শাস্তিমূলক বদলির ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। (চলবে)
Leave a Reply