
সম্পত্তির ভাগ না পেয়ে বাবার দাফনে আপত্তি মেয়ের, ধাপেরহাটে চাঞ্চল্য
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ। সেই বিরোধের জেরে বাবার মৃত্যুর প্রায় ২৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সম্পন্ন হয়নি দাফন। সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অংশ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত বাবার দাফনে সম্মতি দেবেন না বলে জানিয়েছেন মেয়ে হালিমা বেগম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৮০) ওই গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। সে অনুযায়ী মুসল্লিরাও জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে আসেন। তবে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ছেলে ইদ্রিস আলী ব্যাপারী ও মেয়ে হালিমা বেগমের বিরোধের কারণে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
হালিমা বেগমের অভিযোগ, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকাকালে প্রায় দেড় বছর আগে তাঁর ভাই ইদ্রিস আলী ব্যাপারী বাবার সমুদয় সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আপত্তি জানালে তাঁর ভাই বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি বাবার সম্পত্তিতে নিজের কোনো অংশ বুঝে পাননি বলে দাবি করেন হালিমা।
তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নয়, বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ কারণে সম্পত্তির বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাবার কাফন, জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে সম্মতি দেবেন না বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সোমবার বিকেলে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান বলেন,গতকাল থেকেই আমি চেষ্টা চালাচ্ছি আশা করি কিছুক্ষণের মধ্যে সমাধান হবে।
এ বিষয়ে ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন,আমি স্হানীয়দের নিয়ে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্হা করছি।
অপরদিকে এলাকাবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,ইদ্রিস আলী দীর্ঘ দেড় বছর থেকে তার বোনকে ঘুরাচ্ছে। ইদানিং সে বোনের সাথে খারাপ আচরণ করেছে।
স্হানীয়রা বলছেন, হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে ওই প্রস্তাবে সম্মত হননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাবার সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অংশ বুঝে পাওয়াই তাঁর দাবি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছেলে আলহাজ্ব ইদ্রিস আলী ব্যাপারীর সঙ্গে কথা বললে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
একদিকে বাবার মরদেহের দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধ—সব মিলিয়ে বোয়ালীদহ গ্রামে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পারিবারিক বিরোধের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে মরদেহের দাফন সম্পন্ন হবে এবং সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের আইনসম্মত নিষ্পত্তি হবে।
Leave a Reply