1. admin@durnitirtalashteam.com : durnitirtalashteam :
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
August 22, 2026, 4:30 pm

বগুড়া শাজাহানপুরে তালাকপ্রাপ্ত যুবকের সঙ্গে একই কক্ষে দুই ঘণ্টা অবস্থানের অভিযোগ, পরে ফের একসঙ্গে চলে যাওয়ার দাবি

Reporter Name
  • Update Time : Monday, August 10, 2026
  • 62 Time View

বগুড়া শাজাহানপুরে তালাকপ্রাপ্ত যুবকের সঙ্গে একই কক্ষে দুই ঘণ্টা অবস্থানের অভিযোগ, পরে ফের একসঙ্গে চলে যাওয়ার দাবি

এম.এ আরিফ চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী বেজোড়া তালতলা বন্দর এলাকায় তালাকপ্রাপ্ত এক যুবকের সঙ্গে এক তরুণীর একই কক্ষে দীর্ঘ সময় অবস্থানকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই তরুণী ও যুবক প্রায় দুই ঘণ্টা একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের একই বিছানায় দেখতে পান বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই তরুণীর নাম মোছা. সাথী আক্তার (২২)। তার বাবা মো. শাহজাহান আলী (৫৫) পেশায় রিকশাচালক। তিনি জানান, পারিবারিকভাবে প্রথমে চাচাতো ভাই আলামিনের সঙ্গে সাথীর বিয়ে দেওয়া হয়। ওই বিয়েতে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল বলে তার দাবি। পরবর্তীতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

এরপর সাথী আক্তার আব্দুল্লাহ আল নোমান (২৩), পিতা মো. কামরুল হাসান (৫৫), মাতা মোছা. মনিরা খাতুন, বর্তমান ঠিকানা খান্দার মোড়—এর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। ওই বিয়েতে দুই লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরবর্তীতে সাথী আক্তার ও নোমানের মধ্যেও বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে বলে জানা যায়। তবে বিচ্ছেদের পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।

ঘটনার দিন সাথী আক্তারের মা আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে ওই সুযোগে নোমান তার বাড়িতে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এরপর তারা সাথীর কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এক পর্যায়ে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় কয়েকজন ও গণমাধ্যমকর্মী ওই বাড়িতে গেলে সাথী ও নোমানকে একই কক্ষে পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় নোমানকে খালি গায়ে দেখা যায় এবং গণমাধ্যমকর্মীর অনুরোধে তিনি পরে পোশাক পরেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পরে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, পূর্বের বিবাহবিচ্ছেদের পর তারা পুনরায় বিয়ে করেছেন কি না। এ বিষয়ে নোমান প্রথমে একটি কাগজকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেন এবং পরে সেটি ভয় দেখানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলে জানান। স্থানীয়দের দাবি, কাগজটি সত্যায়িত ছিল। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন যে, বিবাহবিচ্ছেদের পর নতুন করে তাদের বিয়ে হয়নি।

এ সময় স্থানীয়রা প্রশ্ন তোলেন, শুধু কথা বলার জন্য হলে দরজা বন্ধ করে এত দীর্ঘ সময় একই কক্ষে থাকার প্রয়োজন কেন হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুনরায় বিয়ের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং একজন কাজীকেও ঘটনাস্থলে ডাকা হয় বলে জানা গেছে। তবে উভয় পক্ষের পরিবারের কেউ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হতে রাজি না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।

পরবর্তীতে নোমানকে বাড়ি চলে যেতে বলা হলে তিনি বাইরে বেরিয়ে পাশের একটি বাড়িতে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ। এদিকে সাথী আক্তারকে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রতিবেশীর বাড়িতে রাখা হয়। কিন্তু গভীর রাতে নোমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাথী সিঁড়ি দিয়ে ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে নোমানের সঙ্গে চলে যান বলে দাবি করেছেন ওই প্রতিবেশী।

ঘটনার বিষয়ে সাথীর বাবা শাহজাহান আলী বলেন, তিনি ঢাকায় রিকশা চালিয়ে পরিবারের খরচ বহন করেন। মেয়ের এসব ঘটনায় তিনি সামাজিকভাবে বিব্রত ও মানসিকভাবে কষ্ট পাচ্ছেন বলেও জানান। তিনি আরও বলেন, মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি বিষয়টি জানাবেন।

স্থানীয়দের দাবি, সাথী আক্তারের এটি পুনরায় বিয়ে হলে মোট চারটি বিয়ে হবে। তবে তার পূর্বের বিবাহ ও বিচ্ছেদের সব তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করা হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি