1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন

টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযান: ‘চোর-পুলিশ’ খেলার অভিযোগ, নাকি সিন্ডিকেট ভাঙার দীর্ঘ লড়াই?

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩১ Time View

টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযান: ‘চোর-পুলিশ’ খেলার অভিযোগ, নাকি সিন্ডিকেট ভাঙার দীর্ঘ লড়াই?

নিজস্ব প্রতিবেদক | টঙ্গী গাজীপুর:

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার খবর প্রকাশ পেলেও মাদক ব্যবসার মূল হোতা, গডফাদার ও ডিলাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই এসব অভিযানকে ‘লোক দেখানো’ বা ‘চোর-পুলিশ’ খেলার সঙ্গে তুলনা করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ব্যাংকের মাঠ, স্টেশন রোড ওভারব্রিজের নিচে, হাজী মাদার বস্তি, বউবাজার রেলগেট, কেরানীর টেক বস্তি, জাভান হোটেলসহ টঙ্গীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলে। তাদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে দু-একজন মাদকসেবী বা খুচরা বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল সিন্ডিকেট অক্ষত থেকে যাচ্ছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—মাদক নির্মূলে পরিচালিত অভিযান কতটা কার্যকর?

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন আহমেদ।

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্ট-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,
“আমরা কোনো অভিযান লোক দেখানোর জন্য বা কোনো কিছুর বিনিময়ে পরিচালনা করছি না। এটি আমাদের নিয়মিত টহল ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। মাদকের ডিলার, ব্যবসায়ী, গডফাদার—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি জানান, সম্প্রতি কেরানীর টেক বস্তির আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী কারীমা ও রুণাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে একাধিক (৬–৭টি) মাদক মামলা রয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও রিমান্ডে নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা এবং নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

ডিসি মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন,
“সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আইনের কিছু প্রক্রিয়াগত সুযোগে অনেক অপরাধী দ্রুত জামিন পেয়ে যায়। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি, যাতে সংঘবদ্ধ মাদক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।”

মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে ‘চোর-পুলিশ’ খেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“এ অভিযোগ সত্য নয়। আমরা মাদকের মূল হোতা, গডফাদার, ডিলার এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছি। খুব শিগগিরই আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

তিনি আরও বলেন, পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য সাংবাদিক সমাজ, সচেতন নাগরিক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। কেউ মাদক ব্যবসা বা সংশ্লিষ্ট অপরাধ সম্পর্কে তথ্য দিলে তা গোপনীয়তার সঙ্গে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অভিযানের প্রকৃত সফলতা তখনই দৃশ্যমান হবে, যখন টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ হবে এবং খুচরা বিক্রেতাদের পাশাপাশি পুরো সিন্ডিকেট আইনের আওতায় আসবে।

মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রতিফলন কতটা নিশ্চিত করা যায়, সেটিই এখন টঙ্গীবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :