
কাঁচকোলে ভাঙন মোকাবিলায় দিনরাত পাউবোর কাজ, জিও ব্যাগ ডাম্পিং অব্যাহত
রাতদিন কাজ চলছে, ১২ হাজার জিও ব্যাগ অনুমোদন; ভাঙন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসার আশাবাদ
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল এলাকায় নতুন করে প্রায় ৬০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে পড়লেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। চলতি বর্ষা মৌসুমে বাঁধটির মোট প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ মিটার এলাকায় ধসের ঘটনা ঘটলেও জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বর্তমানে ভাঙন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ধসের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসানের নেতৃত্বে প্রকৌশলী ও কারিগরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি কার্যক্রম শুরু করে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৪০০টি জিও ব্যাগ ফেলা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও ১২ হাজার জিও ব্যাগের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে গতকাল রাত পর্যন্ত ৪ হাজারেরও বেশি জিও ব্যাগ ডাম্পিং সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
বর্তমানে প্রকৌশলী ও কারিগরি দল দিনরাত ঘটনাস্থলে অবস্থান করে কাজের তদারকি করছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবল স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ভাঙন ঠেকাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “ধসের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে প্রকৌশলী ও কারিগরি দল পাঠিয়েছি। তারা সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করছেন। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। বাঁধ ও আশপাশের গ্রাম রক্ষায় যত পরিমাণ জিও ব্যাগ প্রয়োজন হবে, তা দ্রুত সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মানুষের জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ভাঙন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।”
কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা জুয়েল রানা ও নজরুল ইসলাম বলেন, “ভাঙন শুরু হওয়ার পর থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা জরুরি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, পাউবোর চলমান কার্যক্রমের ফলে ভাঙনের ঝুঁকি আরও কমবে এবং এলাকার বসতভিটা, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিরাপদ থাকবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোত ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাৎক্ষণিক উপস্থিতি, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং দায়িত্বশীল তদারকি প্রশংসার দাবিদার। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাঁধকে নিরাপদ রাখতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বাঁধের ওপর ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply