1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রামে যুবদল নেতা সাজু’র হাত থেকে বাঁচতে ৯৯৯ ফোন দিয়ে রক্ষা পেলেন তরুনী

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ২৫ Time View
Logo

কুড়িগ্রামে যুবদল নেতা সাজু’র হাত থেকে বাঁচতে ৯৯৯ ফোন দিয়ে রক্ষা পেলেন তরুনী

copy sharing button
কুড়িগ্রামে যুবদল নেতা সাজু'র হাত থেকে বাঁচতে ৯৯৯ ফোন দিয়ে রক্ষা পেলেন তরুনী

ছবি : কুড়িগ্রাম সদর থানা যুবদলের সদস্য সচিব সাজু মিয়া

কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলার ভাড়াটে তরুনী (ছদ্মনাম: আরজু আক্তার) গভীর রাত পর্যন্ত মেলায় নাচ-গানের বিনোদন শেষে গভীর রাতে বিশ্রামের জন্য যান  কুড়িগ্রাম সদর থানা যুবদলের সদস্য সচিব সাজু মিয়ার বাড়িতে। সেখানে কুপ্রস্তাবসহ নানা অশোভন আচরণ করেন ওই নেতা। এক পর্যায়ে সম্ভ্রমহানি বাঁচাতে দৌঁড়ে মেলা প্রাঙ্গনের কাছে এসে ৯৯৯ ফোন দিয়ে বেঁচে যান তরুনী। বিষয়টি জানাজানি হলে সেতু এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি বর্তমানে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৬টায় পুলিশের বিশেষ সেবা ৯৯৯ ফোন দেয় কুড়িগ্রাম বাণিজ্য মেলার শিল্পী  (ছদ্মনাম: আরজু আক্তার )। এ সময় মেয়েটি বিপদাপন্ন অবস্থায় আছে মর্মে জানায়। ফোন পাওয়া মাত্র সদর থানার একটি মোবাইল টিম ওই তরুনী শিল্পীকে উদ্ধার করে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,  কুড়িগ্রাম সদর থানা যুবদলের সদস্য সচিব সাজু মিয়ার ভাই লিটন মিয়ার ধরলা সেতু সংলগ্ন বাড়িতে গভীর রাতে বিশ্রামের জন্য যান। এ সময় ওই শিল্পীর সাথে কুপ্রস্তাবসহ নানা অশোভন আচরণ করেন ওই নেতা। রাত গভীর হওয়ায় মেয়েটি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভোরের আলো ফুঁটতেই আকস্মিকভাবে মেয়েটি দৌড়ে ধরলা সেতু পূর্বপাড়ে এসে পুলিশের বিশেষ সেবা ৯৯৯ ফোন দিলে সদর থানা পুলিশের মোবাইল টিম তাকে উদ্ধার করে। এসময় তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত শুনে কুড়িগ্রাম সদর থানা যুবদলের সদস্য সচিবকে সাজু মিয়াকে আটক করে পুলিশ।

দিনভর নানা নাটকীয়তার পর যুবদলের নেতা সাজুকে ১০ ঘন্টা পর বিকাল ৫টায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ঘটনা অনুসন্ধানে নামে এই প্রতিবেদক। কুড়িগ্রাম সদর থানায় গেলে ওই তরুনীর ভাই পরিচয় দেন পুলিশের জনৈক সদস্য। কেমন ভাই-প্রশ্ন করলে প্রথমে আপন ভাই, পরে পরিস্থিতি ভিন্ন আঁচ করতে পেয়ে বলেন-সে আমার বোন না, মূলত উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আয়োজিত মেলায়  তিনি ভাড়াটে শিল্পী সরবরাহ করেন। এর বেশি বলতে নারাজ পুলিশের ওই সদস্য। তার দেয়া শিল্পীর বিপদ দেখে তিনি সদর থানায় ছুঁটে এসেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রংপুর সহকারী পুলিশ সুপার ডি-সার্কেল-এ কর্মরত পুলিশ সদস্য তিনি। এসময় এই প্রতিবেদক নিউজ না করতে অনুরোধ করেন তিনি।

মুলতঃ এই পুলিশ সদস্যের আহবানে কুড়িগ্রাম বাণিজ্য মেলায় ভাড়ায় আসেন ওই তরুন শিল্পী। কুড়িগ্রামের স্থানীয় নেতাদের চাপে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না দিয়ে সন্ধ্যায় ওই তরুনীর পিতা  (ছদ্মনাম: আলতাফ হোসেন) মিঠাপুকুর থেকে এসে তার কন্যাকে থানা থেকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার সময় এই প্রতিবেদককে ওই শিল্পীর পিতা (ছদ্মনাম: আলতাফ হোসেন) পরিচয় গোপন রাখার শর্ত জানায়, “বাবা এগুলো সংবাদ করার দরকার নাই। আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ আছে। সে অবিবাহিত। নিউজ করলে তার অনেক ক্ষতি হবে-এর বেশি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওই বৃদ্ধ।”

সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে ওই তরুনী এবং তার বৃদ্ধ পিতাকে জিম্মি করে রংপুরগামী পরিবহনে তুলে দেন ধরলা সেতু ও সিএন্ডবি ঘাট এলাকার কয়েকজন যুবদলের কর্মী। যাতে কোথাও অভিযোগ করার সুযোগ না পান ওই অসহায় পরিবার।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর থানা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. সাজু মিয়াকে একাধিকবার কল করলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাদিম আহমেদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি।

কুড়িগ্রাম বানিজ্য মেলার প্রিন্স ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক “মো. আঙুর জানান, “মেলায় সার্কাস এবং যাদু ইভেন্টে কোন শিল্পী আসে আর কোন শিল্পী যায়-এটা আমি জানি না। জানার কথাও না। তাছাড়া বিষয়টি মেলার ভিতরের নয়, বাইরের ঘটনা।”

কুড়িগ্রাম যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসিম পারভেজ তারা বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। সামনাসামনি আসেন সাক্ষাতে কথা বলি। ফোনে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।”

এ বিষয়ে কথা কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “ওই তরুনী নিরাপত্তার জন্য বিশেষ সেবা ৯৯৯ ফোন দিয়ে সে বিপদাপন্ন পরিস্থিতিতে আছে জানালে, সদর থানার একটি চৌকস মোবাইল টিম পাঠিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করি। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাজু মিয়াকে থানায় নিয়ে আসা হয়। দিন শেষে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন অভিযোগ না পাওয়ায় বিকাল ৫টার দিকে সাজু মিয়াকে ছেড়ে দেই এবং মেয়েকে তার পিতার নিকট হস্তান্তর করি। লিখিত অভিযোগ না পেলে আমাদের কাউকে আটক রাখার এখতিয়ার নেই বলে জানান তিনি।”

(সংবাদে তরুণী ও তার পরিবারের পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।)

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :