
সদরপুরের এক কিশোরী। পেটের ডান পাশে ব্যথা নিয়ে পরিবারের হাত ধরে এসেছিল ফরিদপুরে। চিকিৎসকের আশ্বাস ছিল—অ্যাপেন্ডিসাইটিস, ছোট একটি অপারেশন, কয়েক দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা যাবে। সেই আশ্বাসই ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা।
কিন্তু অপারেশন থিয়েটারের দরজা বন্ধ হওয়ার পর শুরু হয় তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। উদ্বেগ বাড়তে থাকে। শেষে যে খবরটি আসে, সেটি কোনো মা-বাবার শোনার কথা নয়—তাদের মেয়ে আর বেঁচে নেই।
পরিবারের অভিযোগ, একটি সাধারণ অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের সময় অস্বাভাবিক বড় কাটা দেওয়া হয় এবং চিকিৎসায় গুরুতর অবহেলার কারণেই তাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে সেলাইয়ের বড় দাগ দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে শুধু ছবির ভিত্তিতে চিকিৎসা সঠিক বা ভুল ছিল—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। অনেক সময় জটিল পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচারের ধরন পরিবর্তন করতেও হয়।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে।
এই ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে—ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে সক্রিয় দালালচক্র কি এখনও অসহায় রোগীদের ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে? দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসার আশায় আসা মানুষ কি নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন?
একটি মেয়ের মৃত্যু শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। এটি একটি পরিবারের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন, মায়ের বুকফাটা কান্না, বাবার নীরব অসহায়ত্ব।
যদি চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হয়ে থাকে, তবে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া উচিত। আর যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, সেটিও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি। কারণ স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের সবচেয়ে বড় অধিকার হলো নিরাপদ চিকিৎসা, সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply