
আশুলিয়ার টংগাবাড়ীতে পোশাক শ্রমিক ধ*র্ষ*ণ
মোঃ রাজিবুল ইসলাম রাজিব (সমগ্র ঢাকা বিশেষ প্রতিনিধি)
গ্রেফতার এড়াতে নিজের চেহারা বদলে পালিয়েছিল অভিযুক্ত পারভেজ। মাথার চুল কেটে, দাড়ি ফেলে দিয়ে সে নোয়াখালীতে আত্মগোপন করেছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা তৎপরতায় সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির একদিন আগে আশুলিয়ার টংগাবাড়ী এলাকায় পলমল গ্রুপে কর্মরত পোশাক শ্রমিক সীমাকে বোনের বাসা থেকে ফেরার পথে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে স্থানীয় মাদক কারবারি পারভেজ। ঘটনার পর থেকে সে গা-ঢাকা দেয় এবং ধরা না পড়ার জন্য নিজের চেহারা পরিবর্তনের চেষ্টা করে।
কিন্তু চেহারা বদলানো গেলেও অপরাধের দায় থেকে শেষ রক্ষা হয়নি। গোয়েন্দা সংস্থার ধারাবাহিক নজরদারি ও তথ্যভিত্তিক অভিযানে নোয়াখালী থেকে পারভেজকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, এই গ্রেফতার ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর।
এই ঘটনাকে ঘিরে আগে থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছিল। ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীকে এলাকা ছাড়ার চাপ, পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো এবং কর্মস্থলে চাকরি ছাড়ার মানসিক চাপের অভিযোগও উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে ঘটনাটি শুধু একটি ধর্ষণের মামলা নয়, বরং একটি নারী শ্রমিককে সামাজিকভাবে চেপে ধরার নির্মম চিত্র।
আশুলিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্ন। কাজের জায়গায় তারা যেমন ঝুঁকিতে, তেমনি কর্মস্থলের বাইরে চলাচলের পথেও তারা নিরাপদ নয়। এমন ঘটনায় অপরাধী গ্রেফতার হওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
ধর্ষণের মতো ঘটনায় অপরাধীকে লুকিয়ে পালিয়ে বাঁচতে দেওয়া যাবে না। আর ভুক্তভোগীকে হুমকি, চাপ বা চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে নীরব করাও চলবে না। সাভার-আশুলিয়ার শ্রমজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে এখনই কঠোর নজরদারি, দ্রুত বিচার এবং সামাজিক জবাবদিহি প্রয়োজন।
সাময়িক আত্মগোপন অপরাধ ঢাকতে পারে না।
শেষ পর্যন্ত আইনই ধরে ফেলে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply