
বগড়ার শেরপুরে নেদারল্যান্ডসের সহায়তায় গড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো অবহেলায় পরিত্যক্ত, মিলছে না চিকিৎসাসেবা
মো:এরশাদ হোসেন বগুড়া জেলা ক্রাইম রিপোর্টার:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৭৭ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক সহায়তায় আরডিএ (রিসার্চ ডাটা অ্যানালাইসিস) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, জনবল সংকট ও কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে।
উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পেঁচুল, কুসুম্বী ইউনিয়নের আলতাদিঘী, সুঘাট ইউনিয়নের জয়লা জুয়ান এবং গাড়িদহ ইউনিয়নের কালশীমাটি গ্রামে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র অবস্থিত। এর মধ্যে জয়লা জুয়ান স্বাস্থ্যকেন্দ্র বর্তমানে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কালশীমাটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কারের পর আংশিক চিকিৎসা সেবা চালু রয়েছে।তবে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা দক্ষিণ পেঁচুল ও আলতাদিঘী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র দুটি ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, চারপাশ জঙ্গলাকীর্ণ এবং ভবনগুলো অনেকটা পরিত্যক্ত স্থাপনার মতো দাঁড়িয়ে আছে। দিনের বেলায় সেখানে গরু-ছাগল চরতে দেখা যায়, আর রাতের বেলায় মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একসময় স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্মিত এসব ভবনে এখন চিকিৎসার কোনো কার্যক্রম নেই। স্থানীয়দের দাবি, ভবনের ইট, গ্রিল ও রড পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তারা জানান, ২০১৯ সালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনঃসংস্কার করা হয়। সে সময় চারপাশের ভেঙে যাওয়া সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, কক্ষের ভেতরে টাইলস বসানোসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলেও আজ পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি এবং কোনো চিকিৎসকও দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে এলাকার মানুষকে সামান্য চিকিৎসার জন্যও উপজেলা শহরে যেতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
দক্ষিণ পেঁচুল গ্রামের বাসিন্দা আবু হাসনাত বাপ্পী বলেন, “এখানে কয়েক শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ছিল। নিয়মিত ডাক্তারও আসতেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে কোনো চিকিৎসক আসেন না। এখন ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে বিলীন হওয়ার পথে। এটি মাদকাসক্তদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আমরা আবারও চিকিৎসাসেবা চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক খান বলেন, “আগে এই প্রতিষ্ঠান ভালোভাবেই চলত। এখন এর কোনো কার্যক্রম নেই। সামান্য চিকিৎসার জন্যও অনেক দূরে যেতে হয়, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর।”
আরেক বাসিন্দা মানজাব উদ্দীন বলেন, “বর্তমানে এখানে কোনো ডাক্তার নেই, চিকিৎসাসেবাও নেই। চিকিৎসা নিতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে শেরপুর উপজেলা সদরে যেতে হয়।”
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম বলেন, নেদারল্যান্ডস সরকারের সহায়তায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো নির্মিত হলেও পরবর্তীতে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়া হয়নি। ফলে কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও জনবল পাওয়া গেলে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পুনরায় চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply