1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘ ৬৮ বছরের বঞ্চনার অবসানের স্মৃতি: দাসিয়ারছড়া ছিটমহল মুক্তির ১১তম বার্ষিকী পালিত, পূর্ণাঙ্গ ইউনিয়নের দাবিতে সোচ্চার বাসিন্দারা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫ Time View

দীর্ঘ ৬৮ বছরের বঞ্চনার অবসানের স্মৃতি: দাসিয়ারছড়া ছিটমহল মুক্তির ১১তম বার্ষিকী পালিত, পূর্ণাঙ্গ ইউনিয়নের দাবিতে সোচ্চার বাসিন্দারা
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ঐতিহাসিক দাসিয়ারছড়া ছিটমহল মুক্তির ১১তম বার্ষিকী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। দীর্ঘ ৬৮ বছরের বঞ্চনা, বৈষম্য ও রাষ্ট্রহীনতার অবসানের ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণ করে ৩১ জুলাই শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মুক্তির এই স্মরণীয় আয়োজনে স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আবেগ, দেশপ্রেম এবং ছিটমহল আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, জননন্দিত নেতা আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের মুক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বৈষম্য ও রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে এখানকার মানুষ আজ স্বাধীন বাংলাদেশের পূর্ণ নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার ভোগ করছেন।”
তিনি ছিটমহল মুক্তির আন্দোলনে অবদান রাখা সংগ্রামী মানুষ ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মান্নান মুকুল, কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসিম পারভেজ তারা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান জোবায়ের হিমেল, উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান হাসু এবং ফুলবাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক।
এছাড়াও উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে ছিটমহল মুক্তির স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। পরে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই ঐতিহাসিক এই মুক্তির দিনকে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের সঙ্গে স্মরণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে দীর্ঘ ৬৮ বছরের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে। বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন। এর মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম ছিটমহল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়াসহ ছিটমহলবাসীর জীবনে সূচনা হয় নতুন অধ্যায়ের।
৩১ জুলাই রাত ১২টা পেরিয়ে ছিটমহল বিনিময়ের ১১ বছর পূর্ণ হয়ে ১২ বছরে পদার্পণ করেছে। ঐতিহাসিক এই দিনটি স্মরণে দাসিয়ারছড়াবাসী প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির আলোকে দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় সম্পন্ন হয়। চুক্তির বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
ভারতের ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর আয়তনের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলার সঙ্গে যুক্ত হয়। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়া ছিল সবচেয়ে বড় ছিটমহল। যার আয়তন ১ হাজার ৬৪৩ দশমিক ৪৪ একর এবং তৎকালীন জনসংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫২৯ জন।
ছিটমহল বিনিময়ের পর দাসিয়ারছড়ায় এসেছে উন্নয়নের নতুন ধারা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, কৃষি সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। নির্মাণ হয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মসজিদ, মন্দির, পাকা সড়ক, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, সেচ প্রকল্প এবং ভূমি রেকর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।
বর্তমানে দাসিয়ারছড়ায় মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করছেন। তবে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, সাবেক এই ছিটমহলকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দাসিয়ারছড়া ইউনিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি পেলে এখানকার প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও দ্রুত উন্নত হবে এবং প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সহজ হবে।
দাসিয়ারছড়ার মুক্তির ইতিহাস শুধু একটি জনপদের স্বাধীনতার গল্প নয়, এটি অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রাম ও মানুষের অদম্য প্রত্যয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :