
পাইকগাছায় দু’দিনেও গরুর মাংসের সবুজ রঙ ধারণ রহস্য উদঘাটন হয়নি ; ল্যাব টেস্টের জন্য মাংস জব্দ
পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় গরুর মাংসের সবুজ রঙ ধারণ সংক্রান্ত রহস্য গত দুইদিনেও উদঘাটন করতে পারিনি সংশ্লিষ্ট কেউ। এনিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা একজন আরেকজনকে দোষারোপ করছে । ক্রেতার দাবি কেমিক্যাল দিয়ে ফ্রিজে রাখার কারণে এমন হতে পারে, অন্যদিকে বিক্রেতার দাবি বেকারি এবং বাবুর্চি থেকে সমস্যা হতে পারে । এদিকে বিষয়টি মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে দুই ধরনের মাংস জব্দ করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট ছাড়া সবুজ রঙ ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগ করা হয়নি। এ ঘটনার পর কেনা মাংস কতটা নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি মুক্ত কিনা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য ২২ জুলাই উপজেলা সদরের মডার্ণ বেকারির কর্মচারীরা বাজার থেকে গরুর মাংস কিনে রান্না করার সময় মাংস সবুজ রঙ ধারণ করার ঘটনা ঘটে। বেকারি মালিকের ছেলে আব্দুল্লাহ জহির উদ্দিন বলেন বেকারির সকল কর্মচারীরা মিলে প্রতিমাসে একবার গরুর মাংস রান্না করে খাওয়া দাওয়া এবং আনন্দ করে। বেকারিতে কোন ফুড কালার ব্যবহার করা হয় না বলে তিনি দাবি করেন।
বাবুর্চি ও বেকারির হেড মিস্ত্রি খন্দকার টিটন হোসেন রাকিব বলেন আমি নিয়মিত বাবুর্চি না তবে ওইদিন আমি রান্না করছিলাম। আমার সাথে সহযোগিতা করেছিল নিয়মিত বাবুর্চি খায়রুল ইসলাম। আমরা ৩ জন বাজারের ইসমাইল এর দোকান থেকে প্রায় ৪ কেজি ফ্রিজে রাখা গরুর মাংস কিনে নিয়ে আসি। মাংস ভালো করে ধুয়ে কড়াইয়ের উপর দিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় সমস্ত মাংস মুহূর্তের মধ্যে সবুজ হয়ে যায়। পরে কড়াই সহ রান্না করা মাংস বিক্রেতা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং থানা পুলিশ কে দেখায়। নষ্ট মাংস কেমিক্যাল দিয়ে ফ্রিজে রাখার কারণে এমনটা হতে পারে বলে বেকারির বাবুর্চি জানান।
মাংস বাজারের পুরাতন ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন আমি ৩৫ বছর ধরে মাংসের ব্যবসা করছি, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা কখনো শুনি নাই। আমার মনে হয় বেকারি, বাবুর্চি অথবা মসলা থেকে কিছু ঘটতে পারে। তদন্ত এবং পরীক্ষা করলে বিষয়টি জানা যাবে বলে তার ধারণা।
মাংস বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন জানান আমি ১৫ বছর ধরে গরুর মাংসের ব্যবসা করছি। এর আগে এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। সোম ও মঙ্গলবার ১৫ কেজির মতো মাংস ফ্রিজে রেখেছিলাম, যে মাংস মডার্ন বেকারি সহ আরো ৪ জনের কাছে বিক্রি করেছিলাম, এমনকি আমার বাড়িতে মেহমান থাকায় ওই মাংস আমার নিজের বাড়িতে রান্না করে খেয়েছি। মডার্ন বেকারি ছাড়া কোন ক্রেতা যেমন কোন অভিযোগ করেনি, তেমনি বাড়িতে রান্না করার সময় কোন রঙ পরিবর্তন হয়নি। এটা বেকারি কর্মচারীদের মাধ্যমে কোন না কোন ভাবেই হয়েছে বলে মাংস ব্যাবসায়ীর ধারণা।
উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও উপজেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা উদয় কুমার মন্ডল বলেন আমরা বিক্রেতা এবং ওই দিনের একাধিক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলেছি কিন্তু গরুর মাংস রান্না করার সময় সবুজ রঙ ধারণ বিষয় সংক্রান্ত প্রকৃত কোন কারণ এখনো পর্যন্ত নির্ণয় করতে পারিনি। তবে রান্না করা ওই মাংস সহ দুই ধরনের মাংস সংগ্রহ / জব্দ করে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে পুরো ঘটনা অবহিত করেছি। ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট ছাড়া সবুজ রঙ ধারণ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন বলেন ঘটনার পর থেকে মাংস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেনা মাংস কতটা নিরাপদ এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত কিনা এই মাংসের রঙ পরিবর্তনের কারণ নির্ণয়ের উপর তা নির্ভর করছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যতদ্রুত সম্ভব এর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply