
রাজারহাটে নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমের উদ্বোধন: স্বস্তির আশায় নদীপাড়ের হাজারো মানুষ
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
বছরের পর বছর নদীভাঙনের নির্মম আঘাতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের নদীপাড়ের মানুষ। প্রতি বর্ষায় নতুন করে ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটানো এসব মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে শুরু হয়েছে নদীভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম।
আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “নদীভাঙন শুধু মাটি ভাঙে না, ভেঙে দেয় মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি, শিকড় ও ভবিষ্যৎ। তাই নদীপাড়ের মানুষের জীবন, বসতভিটা ও সম্পদ রক্ষায় কার্যকর এবং টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভাঙনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে এবং নদীপাড়ের মানুষ নিরাপদ ও স্বস্তির জীবন ফিরে পাবে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে আরও জিও ব্যাগ বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হবে, যাতে নদীভাঙন প্রতিরোধে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে। এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ এবং কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসানের সার্বিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে চলমান এই কার্যক্রম দ্রুত, সুষ্ঠু ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা হলে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই নদীর ভয়াল থাবায় তাদের জীবন হয়ে ওঠে অনিশ্চিত। অনেক পরিবার একাধিকবার বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছে। তাই জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তাদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ, বসতভিটা এবং জীবিকা রক্ষায় একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা গড়ে উঠবে।
নদীভাঙন প্রতিরোধে এই উদ্যোগ শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি হাজারো নদীপাড়ের মানুষের জীবন, নিরাপত্তা, স্বপ্ন ও অস্তিত্ব রক্ষার এক মানবিক অঙ্গীকার। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হলে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের নদীপাড়ে বসবাসকারী মানুষের দীর্ঘদিনের কান্না, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে এবং ফিরে আসবে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও নতুন আশার আলো।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply