
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে অনিয়মের অভিযোগ: গ্রাহকের হাজার কোটি টাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
লাইফ ফান্ড লুট, ভুয়া সম্পদ ক্রয়, পারিবারিক বেতন, বিলাসবহুল গাড়ি ও দাবি পরিশোধে স্থবিরতা—জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ ও দুদকের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার:মোঃশাহীন হোসেন
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডকে ঘিরে একের পর এক আর্থিক অনিয়ম ও করপোরেট সুশাসন লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের অর্থ বিভিন্ন উপায়ে অপব্যবহার, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া অর্থ স্থানান্তর, চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যদের বেতন প্রদান, বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয় এবং পরিপক্ব (ম্যাচিউরড) পলিসির দাবি পরিশোধ বন্ধ রাখার মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ফলে হাজার হাজার পলিসিধারীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ছবিতে উপস্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো—
লাইফ ফান্ড থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া: গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের অর্থ মালিকপক্ষের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের অভিযোগ। এতে প্রায় ৪৫৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা গায়েব হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
ভুয়া জমি-ভবন ক্রয়: পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই মালিকের প্রতিষ্ঠানে ১৪১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার অভিযোগ, যার অর্থ ফেরত আসেনি বলে দাবি।
পারিবারিক বেতন ব্যবস্থা: চেয়ারম্যানের পরিবারের সাত সদস্যকে মাসিক বেতন দিয়ে প্রায় ১৪ মাসে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা পরিশোধের অভিযোগ, যা কোম্পানির নীতিমালা ও আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়: নির্ধারিত সীমার বাইরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি Audi গাড়ি কেনার অভিযোগ, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।
দাবি পরিশোধে স্থবিরতা: ২০২১ সাল থেকে বহু ম্যাচিউরড পলিসির অর্থ পরিশোধ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। বকেয়া দাবি প্রায় ২,৮১৫ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুয়া ডকুমেন্টের অভিযোগ: হেসপেরিয়াল ভবনসংক্রান্ত জমির দলিল, নামজারি ও নির্মাণ অনুমোদনের যথাযথ নথি না থাকার অভিযোগ তুলে প্রায় ৭ কাঠা জমির অর্থ লোপাটের দাবি করা হয়েছে।
সোয়েটার-অ্যাপায়ার বাবদ অর্থ স্থানান্তর: একই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে ৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা স্থানান্তরের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
এসব অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং দেশের বীমা খাতের প্রতি জনআস্থার ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাহকদের লাইফ ফান্ড একটি ট্রাস্টভিত্তিক তহবিল; এ অর্থের অপব্যবহার হলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ পলিসিধারীরা।
এদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ন্যায়সঙ্গত সাংবাদিকতার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের লিখিত বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
তদন্তের দাবি
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগগুলো বর্তমানে প্রমাণিত বিচারিক সত্য নয়; এগুলো স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে অনিয়মের অভিযোগ: গ্রাহকের হাজার কোটি টাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply