
পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার, জমি দখলের চেষ্টা ও গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ; নিরাপত্তা চেয়ে অসহায় পরিবারের আবেদন
নিজস্ব প্রতি নিধি,
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এক পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা এবং গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়েছে।
অভিযোগকারী আবদুল হক দাবি করেন, তার বড় ভাই সুলতান উদ্দিন, যিনি পুলিশের সদস্য, দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে এলাকা থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চলছে এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গ্রাম্য সালিশ ও স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো কার্যকর হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্য সুলতান উদ্দিনের স্ত্রীও পুলিশের প্রভাব ব্যবহার করে একাধিকবার কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় গিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, এসব ঘটনায় স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। তারা এটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সুলতান উদ্দিনের পিতা মোজাফফর এবং মাতা মোছা. শান্তি বেগম, গ্রাম মধ্য বেতছুরি, ডাকঘর দীঘিনালা, থানা দীঘিনালা, জেলা খাগড়াছড়ির পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী আবদুল হক বলেন,
“আমি একজন দিনমজুর মানুষ। মামলা পরিচালনা করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। আমি শুধু নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং আমার বৈধ অধিকার রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাই।”
এ ঘটনায় বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য সুলতান উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো গুরুতর। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ যাচাই এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এবিষয়ে দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল চৌধুরী বলেন বিষয়টি পারিবারিক সমস্যা, পুলিশ সদস্য সুলতান উদ্দিন সচিবালয়ে ডিউটি করেন তবে তিনি এলাকায় আসতে পারেন না। এছাড়াও আনিত অভিযোগের সত্যতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যাবস্হা গ্রহন করবেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply