
হরিদাস বাবুকে ঘিরে জনমনে প্রশ্নের ঝড়, উঠছে একের পর এক অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
সৈয়দ বিশাল, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা)
পলাশবাড়ীতে হরিদাস বাবুকে ঘিরে দিন দিন বাড়ছে নানা প্রশ্ন, অভিযোগ ও জনমনে ক্ষোভ। ধর্ম, মন্দির ও মানবসেবার আড়ালে আসলে কী চলছে—তা নিয়ে এখন এলাকাজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা। স্থানীয়দের দাবি, একের পর এক অসঙ্গতি ও রহস্যজনক কর্মকাণ্ডের কারণে হরিদাস বাবুর ভূমিকা এখন গভীরভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
জনমনে ঘুরপাক খাওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
১. ধর্ম পরিবর্তনের রহস্য কী?
হরিদাস বাবু যদি সত্যিই এত ধর্মভীরু ও আদর্শবান হয়ে থাকেন, তাহলে ২০১৮ সালে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন কেন? কী কারণে তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—এ প্রশ্নের উত্তর আজও জানতে চায় সাধারণ মানুষ।
২. মন্দিরে আবাসিক ব্যবস্থা কেন?
যদি শুধুমাত্র উপাসনা ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে মন্দির নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে আবাসিক সুবিধা রাখা হয়েছে কেন? স্থানীয়দের প্রশ্ন—এর আড়ালে অন্য কোনো কার্যক্রম, গোপন সিন্ডিকেট কিংবা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না।
৩. হিন্দুদের কল্যাণের নামে নির্যাতনের অভিযোগ কেন?
হরিদাস বাবু নিজেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণকামী দাবি করলেও, তার মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়েরই অনেক মানুষ বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাহলে এটি কিসের কল্যাণ—এ প্রশ্ন এখন জোরালো হচ্ছে।
৪. গরিব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ
গরিব ও সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতির কথা বলা হলেও, মন্দিরের দোকান বরাদ্দ নিতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, সেখানে অর্থ ছাড়া কোনো সুযোগ মেলে না।
৫. মন্দির পরিচালনার টাকার উৎস কোথায়?
হরিদাস বাবু একসময় দাবি করেছিলেন, মন্দির পরিচালনার খরচ তার রিসোর্ট ব্যবসার আয় থেকে আসে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—যদি তিনি ২০১৮ সালেই সেই রিসোর্ট বিক্রি করে দিয়ে থাকেন, তাহলে কোটি টাকার মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার অর্থ আসছে কোথা থেকে? এই অর্থের উৎস নিয়েও এখন জনমনে তৈরি হয়েছে রহস্য ও সন্দেহ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ধর্মের পবিত্রতাকে ব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে প্রশ্ন করলেই নানা চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। তবে সাধারণ মানুষ এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে। তারা বলছেন—সত্য গোপন থাকে না, একদিন না একদিন সব অপকর্মের মুখোশ খুলবেই।
হরিদাস বাবুর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ রয়েছে, যা পরবর্তী পর্বে তুলে ধরা হবে।
কপি
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply