
📰 কুলাউড়ায় শিশু আনজুম হত্যাকাণ্ড: শোকাহত পরিবারে জামায়াত আমিরের উপস্থিতি, ‘খুনিকে বাঁচানোর চেষ্টা সহ্য করা হবে না’ – ডাঃ শফিকুর রহমান
মোঃ নাজিম মিয়া
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি
আজ ২৭ জুন,
কুলাউড়া উপজেলার একটি হৃদয়বিদারক ও জঘন্য হত্যাকাণ্ডে নিহত শিশু নাফিজা জান্নাত আনজুমের বাড়িতে গিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। নির্মমভাবে প্রাণ হারানো এই অবুঝ শিশুর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তিনি ঢাকা থেকে সরাসরি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
বাড়ির আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,
“নাফিজা জান্নাত আনজুমের হত্যাকাণ্ডের খবর আমি ঢাকায় অবস্থানকালে শুনেছি। খবরটা শোনার পর থেকে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। আমার নিজ উপজেলা কুলাউড়ার এই ঘটনা আমাকে অনেক বেশি ব্যথিত করেছে। আজ আমি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, একজন বাবা হিসেবেও এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এসেছি।”
তিনি বলেন,
“এই অবুঝ শিশুকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। মেয়েটির বাবার সঙ্গে আমার সরাসরি কথা হয়েছে। তিনি যেভাবে এই ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন, তা শুনে আমার আত্মা কেঁপে উঠেছে। এটা কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটা মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতম অপরাধ।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা দেখতে পাচ্ছি, একটি প্রভাবশালী মহল এই মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। যদি খুনিকে বাঁচানোর কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবো না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা জালেমের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।”
❗ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা
ডাঃ শফিকুর রহমান স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,
“পুলিশ যেন ন্যায়ের পক্ষে থাকে। তদন্ত কর্মকর্তা যেন কোনো পক্ষপাতিত্ব না করেন। আমরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই—এই মজলুম পরিবারের পাশে দাঁড়ান। এতে আপনার দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ হবে।”
🕯️ কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল
এরপর তিনি আনজুমের কবর জিয়ারত করতে যান। কুলাউড়ার দাউদপুর জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে সবুজে ঘেরা কবরস্থানে গিয়ে তিনি মেয়েটির কবর জিয়ারত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। নিহত আনজুমের রূহের মাগফিরাত কামনায় কান্নাভেজা কণ্ঠে দোয়া করেন তিনি।
মোনাজাত শেষে তিনি নিহত শিশুর ঘরে গিয়ে বাবা খালিক মিয়া, ছোট ভাই ও শিশুবোনের সাথে সাক্ষাৎ করেন ও শান্তনা দেন। পর্দার আড়াল থেকে আনজুমের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার কলিজার টুকরো মেয়েকে হত্যা করেছে যারা, আমি তাদের বিচার চাই। আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে গেলাম।”
এই সময় উপস্থিত সকলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আমিরে জামায়াত পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে আবারো দোয়া পরিচালনা করেন।
📢 জনতার প্রতিবাদ ও স্লোগান
বাড়ির আঙিনায় শত শত মানুষ জড়ো হয়ে হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে গর্জে ওঠে। “আনজুম হত্যাকারীর ফাঁসি চাই! দিতে হবে!” – এ ধরণের স্লোগানে কেঁপে উঠে বাড়ির আঙিনা। জনতাকে শান্ত রাখতে গিয়ে ডাঃ শফিক বলেন,
“আপনাদের কষ্ট আমি বুঝতে পারছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা একসঙ্গে এই নির্মম হত্যার বিচার আদায়ে সফল হবো। এই পথচলায় আমি আপনাদের পাশে আছি।”
👥 সফরসঙ্গীরা ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
ডাঃ শফিকুর রহমানের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের
জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহেদ আলী
নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান
জেলা সেক্রেটারি মোঃ ইয়ামীর আলী
কুলাউড়া উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী
সহকারী সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম খান ও আলাউদ্দিন
ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি নিজাম উদ্দিন
উপজেলা সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক
এছাড়াও আরও বক্তব্য রাখেন—
গাংগুল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউসুফ আলী
সাবেক উপজেলা আমির আব্দুল হামিদ খান
উপজেলা শূরা সদস্য রাজানুর রহিম ইফতেখার
জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আজিজ আহমদ কিবরিয়া
ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন সভাপতি হাসান আলী প্রমুখ।
🎙️ সাংবাদিকদের প্রশ্নে সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া
মিডিয়া ব্রিফিংয়ের সময় এক সাংবাদিক বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন,
“আমি আজ রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আজ আমি কেবলই একজন অসহায় বাবার পাশে দাঁড়াতে এসেছি। এই মেয়ে যদি আমার মেয়ে হতো, তাহলে আমি কেমন অনুভব করতাম—আপনারা ভাবুন। দয়া করে আপনারা আজ স্যাক্রিফাইস করুন।”
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply