
সাতক্ষীরায় মারামারি থামাতে গিয়ে তরুণ নিহত
মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা শহরের পশু হাসপাতাল মোড়ে চায়ের দোকানে কথা-কাটাকাটি ও মারামারি থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে মো. জাকারিয়া খান (১৯) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশু হাসপাতাল মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনেও ঘটনাটি ও সময়ের সঙ্গে এ তথ্যের মিল পাওয়া গেছে।
নিহত জাকারিয়া খান সাতক্ষীরা শহরের ঐতিহ্যবাহী রুচিরা বেকারির মালিক আলহাজ আব্দুর গফুর খানের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি সাতক্ষীরা পৌর বিএনপি নেতা মাছুম বিল্লাহ শাহীনের মামাতো ভাই।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে জাকারিয়া পশু হাসপাতাল মোড়ের একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে চায়ের দোকানদারের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি উত্তপ্ত হয়ে মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরিস্থিতি খারাপ দেখে চায়ের দোকানদারকে রক্ষা করতে এবং মারামারি থামাতে জাকারিয়া এগিয়ে যান। এ সময় সেখানে থাকা এক ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে জাকারিয়ার ওপর ধারালো ছুরি দিয়ে হামলা চালান। হামলাকারী তার বুক ও পেটে ছুরিকাঘাত করে বলে স্থানীয় সূত্র ও সংবাদ প্রতিবেদনে জানা গেছে।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে জাকারিয়া ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় জাকারিয়াকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা শুরু করেন। তবে গুরুতর আহত জাকারিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতের দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহীদুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
Leave a Reply