
বগুড়ায় এলজিডির রাস্তা পুকুরে বিলিন হওয়ার পথে দেখার কেউ নেই
মো:এরশাদ হোসেন বগুড়া জেলা ক্রাইম রিপোর্টার:
বগুড়ার শেরপুরে এলজিইডির রাস্তা
পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে
বগুড়ার শেরপুরে বিভিন্ন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক পাকা রাস্তার পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরের পাড় না থাকায় এলজিইডির রাস্তা ভেঙে একের পর এক পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে প্রতিবছর এসব রাস্তা ভাঙন রোধে সরকারের কোটি টাকার উপরে ব্যয় হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা।
উপজেলার খামারকান্দি, সুঘাট, খানপুর, বিশালপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, অনেক স্থানে গ্রামীণ পাকা ও কাঁচা রাস্তার একেবারে লাগোয়া পুকুর খনন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও পুকুরের পানি ও ঢেউয়ের কারণে রাস্তার মাটি ধসে গিয়ে রাস্তার বড় অংশ পুকুরের মধ্যে চলে গেছে। ফলে সরু হয়ে পড়েছে রাস্তা। এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থান দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ।
স্থানীয়রা জানান, জমির মালিকরা পুকুর খনন করে লীজ দিয়ে মোটা অংকের টাকা পায়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশের পুকুরগুলোতে পাড় না থাকায় বর্ষা মৌসুমে রাস্তার মাটি ধসে পড়ে। ধীরে ধীরে ভাঙন বাড়তে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সংস্কার করা হয় না। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। আবার ভাঙন ঠেকাতে প্রতিবছর সরকারি অর্থে প্যালাসাইডসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক কাজ করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে যোগাযোগ ও চলাচলের জন্য রাস্তা গুলোর প্রায় ১০০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ভাঙা স্থান দ্রুত সংস্কার করা না হলে কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা ঘেঁষে পুকুর খননের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। অনেক পুকুরের পাড়ে রাস্তা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত মাটি বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় সড়ক ধসে যাচ্ছে। ফলে জনগণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি প্রতিবছর সরকারি অর্থ ব্যয় করে সেগুলো মেরামত করতে হচ্ছে। তাদের দাবি, সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন বন্ধ এবং বিদ্যমান পুকুরগুলোর পাড় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করেছি। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে রাস্তার ধারের পুকুর মালিকদের চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে তাদের পুকুরের পাড় নির্মাণের জন্য। যারা এটি মানবেন না, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, রাস্তার নিরাপত্তা ও সরকারি অবকাঠামো রক্ষায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সড়কের পাশে পুকুর খনন ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply