
#ব্যাখ্যাঃ বন্ধুগণ, বাংলাদেশের সংবিধান হল মৌলিক আইন বা মূল আইন।এই মূল আইন অন্যান্য আইনের উপর সবসময় প্রাধান্য লাভ করে।সুতরাং, কোন আইন বা তার কোন ধারা যদি সংবিধানের কোন বিধানের পরিপন্থী হয় সেটাকে আমরা ‘সাংঘর্ষিক’ বলতে পারি আর এক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক আইন সবসময় বাতিল হয়ে যায়, আরও নির্দিষ্ট করে বলা যায়, মৌলিক অধিকার এর সাথে সাংঘর্ষিক। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৬(২)অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্র ‘মৌলিক অধিকার’-এর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোন আইন প্রণয়ন করবে না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হলে তা যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হয়ে যাবে।সুতরাং, প্রশ্নটা এভাবে রাখা সমীচীন যে, সুরক্ষা আইন কি বাক স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক?এবার তাহলে ‘মৌলিক অধিকার’- সম্পর্কে জানা যাক।রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের কিছু অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া থাকে।এ অধিকার গুলো দেশের সংবিধানে বলা থাকে।সংবিধানে উল্লিখিত অধিকার গুলোই একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করা আছে।বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় পরিচ্ছেদের ২৮ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার গুলো লিপিবদ্ধ করা আছে এবং সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মৌলিক অধিকার বলবৎ করার এখতিয়ার সংবিধানের চতুর্থ পরিচ্ছেদের ১০২ অনুচ্ছেদে বিবৃত রয়েছে।অবশ্য কিছু কিছু অধিকার সংবিধানের ১৪১(ক) (খ) ও (গ) অনুচ্ছেদের আওতায় দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থায় স্থগিত ঘোষিত হতে পারে।সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে।রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতা কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হয়েছে।এই অনুচ্ছেদটিতে দেখা যায়, কোনো ধরনের বাধা নিষেধ ছাড়াই এতে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার উল্লেখ রয়েছে। অপর দিকে বাক্ স্বাধীনতার ক্ষেত্রে দেখা যায় এটি শর্তসাপেক্ষ।আর শর্তগুলো একজন নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার এবং সংবাদ পত্রের স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃংখলা, শালীনতা, নৈতিকতা, আদালত অবমাননা, মানহানি, অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা ইত্যাদি বিষয়ে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত যেসব বাধানিষেধ রয়েছে তা অতিক্রম না করে।প্রসঙ্গত, এ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক আইন কি বলে একটু জেনে নেয়া যেতে পারে।১৯৪৮ সালে মানবা ধিকার সনদ Universal Decla- ration of Human Rights- এর ১৯নং অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী অভিব্যক্তির স্বাধীন প্রকাশকে শনাক্ত করা হয়েছে।সেখানে বলা হয়েছে “প্রত্যেকের অধিকার আছে নিজের মতামত এবং অভি ব্যক্তি প্রকাশ করার।এই অধিকারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে নিজের স্বাধীনচেতায় কোনো বাধা ব্যতীত অটল থাকা, পুরো বিশ্বের যে কোনো মাধ্যম থেকে যে কোনো তথ্য অর্জন করা বা অন্য কোথাও সে তথ্য বা চিন্তা মৌখিক, লিখিত, চিত্রকলা অথবা অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা জ্ঞাপন করার অধিকার”।এই ১৯নং অনুচ্ছেদ পরবর্তীতে বেসামরিক ও রাজনৈতিক আন্তর্জাতিক চুক্তি International Covenant on Civil and Political Rights 1966 দ্বারা সংশোধিত হয়।এতে বলা হয় -এইসব অধি কারের চর্চা বিশেষায়িত নিয়ম এবং দায়িত্বকে ধারণ করে, তবে যদি এই চর্চার দ্বারা কারো সম্মান হানি হয় বা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় তবে কিছু ক্ষেত্রে এর অবাধ চর্চা রহিত করা হয়।আল্লাহ মহান।আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক জ্ঞান দান করুন।জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।জয় হোক দেশরত্ন জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবং এদেশের জনগণের।আল্লাহ সহায় হোন। আমিন।
মোঃআবুল কালাম আযাদ,
এডভোকেট,
জজ কোর্ট, লক্ষ্মীপুর।বাংলাদেশ।
মোবাঃ ০১৭১৬৫৫৫৩১২
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply