1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:২১ পূর্বাহ্ন

বালিয়া মাদ্রাসার ৪৯ জন শিক্ষকের অভিযোগ আমলে নেয়নি কমিটি ?

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪
  • ২৬৫ Time View

বালিয়া মাদ্রাসার ৪৯ জন শিক্ষকের অভিযোগ আমলে নেয়নি কমিটি ?

মোছাঃ শামীমা পাঠান বিশেষ প্রতিনিধি।

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওঃ ওয়াইজ উদ্দিনের শেষ ভরসা সদ্য পাশ করা উপজেলার চেয়ারম্যান জনাব হাবিব সাহেব। তিনি তার পক্ষে থাকলে মুহতামিম হিসেবে বহাল থাকতে আর কোন সমস্যা হবেনা।
স্থানীয় এমপির বাবার নামে ভবন করায় তিনিও পক্ষেই আছেন বলে ধারণা জনমনে। পক্ষে রয়েছে কমিটির একাংশ। তাকে আর ঠেকায় কে? তাদেরকে একটু আপ্যায়ন আর সন্মানীদিলেই হলো।
যে কারনে ৪৯ জন শিক্ষক অনিয়ম, দূর্নীতি, অর্থ আত্মসাথের অভিযোগ করেও কোন ফল হয়নি। কারন মাসে মাসে সামান্য ভাগা পাওয়ার আশায় যে কোন মূল্যেই মুহতামিম মাওঃ ওয়াইজ উদ্দিনকে টিকিয়ে রাখবে বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে।
জামিয়া আরাবিয়া আশরাফুল উলুম বালিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওঃ ওয়াইজ উদ্দিন সাহেবের বিরুদ্ধে বহু অভিযেগ পাওয়া গেছে। ধর্মীয় লেবাসধারী ওয়াইজ উদ্দিন এর বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন শেষ নেই। শিক্ষরা জানিয়েছেন, মাদ্রসার আত্মসাৎকৃত অর্থ দিয়ে তিনি একটি মহলকে পকেটস্থ করে রেখেছেন। ফলে তার দুর্নীতির তদন্ত পর্যন্ত হয়না। তিনি স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে পক্ষে রাখার জন্য নানাসব মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এতো অভিযোগের পরও কমিটি তথাকতিথ তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত শুরু হয়েছে অনেক বিলম্ব করে। এতে জনগণ ধরে নিয়েছেন তারা তদন্তে গোলমাল করবে। না হয় কেন তদন্ত এত দেরি করছে? তাকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বরখাস্ত করাও হয়নি। রাষ্ট্রিয় কোন সংস্থা এমন অভিযোগ পেলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতো, অথচ কমিটি তথাকতিথ তদন্তের নামে কিছুই করেনি।
প্রকাশ, বালিয়া মাদ্রাসার নামে রশিদ বিহীন টাকা আদায় করা হয়। দানের টাকায় বোর্ডিং ঘর মেরামতের জন্য ইট এনেছেন যা মুহতামিম এর নিজ উক্তি অথচ দানের টাকার কোন রশিদ দেওয়া হয় নাই। পক্ষান্তরে মহদিপুর এ, এম, এ ব্রিক্স হতে চার হাজার ইটের (জানুয়ারী ২০২৪ইং ৬৪৪ নং) ভুয়া ভাউচার জমা দিয়ে অফিস হতে ৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকা নেওয়া হয় অথচ মহদিপুর এ.এম.এ ব্রিক্স হতে কোন ইট মাদ্রাসায় আসে নাই। (২) মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রীদের কাছ থেকে সি সি ক্যামেরা ও সাউন্ড বক্সের জন্য দুই দফায় লক্ষাধিক টাকা কালেকশান করা হয় অথচ টাকার কোন রশিদ কাটা হয় নাই। পক্ষান্তরে সি সি ক্যামেরা ও সাউন্ড বক্স ক্রয়ের ভাউচার অফিসে জমা দিয়ে অফিস থেকে পুনরায় টাকা নেওয়া হয়েছে।
সুত্র জানায়, বালিয়া বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী নূরুল আমিন এর কাছে অবৈধ ভাবে মাদ্রাসার ভূমি বিক্রির মূল্য গোপন করা হয়। (৪) নৈহাটী নিবাসী ইকরাম তালুকদার সাহেবের নিকট বালিয়া মাদরাসার বিক্রিত ভূমির মূল্য বাবদ ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা পরিশোধ করিয়াছিলেন। কিন্তু অদ্যবধি তাহার কোন রশিদ দেওয়া হয় নাই। এমন কি মাদ্রাসারা কোন হিসাবেও লিপিবদ্ধ করা হয় নাই। (৫) মহিলা মাদরাসার কাজ শেষে উদ্বৃত্ত ১০৬ ব্যাগ সিমেন্ট ও সুরকী বিক্রয়ের মূল্য ক্রেতাগণ আদায় করার পরেও মাদরাসার কোন হিসাব বা রশিদে না এনে তসরুপ করা হয়। (৬) মহিলা মাদ্রাসার পুরাতন লোহার এঙ্গেল বিক্রি করে মোট ৪০,০০০/- টাকা তা হিসাবে না এনে ভুয়া রশিদের মাধ্যমে তসরুপ করা হয়। ৭। লক্ষ টাকার উপরে বড় দুইটি শেগুণ গাছ কেটে মাত্র তিনটি চেয়ারের কাঠ ব্যতিত বাকী কাঠ তসরুপ করা হয়। ৮। ভালকীর বড় পুকুর থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার মাটি বিক্রি করে হিসাব বিভাগে কোন হিসাব না দিয়ে গোপন করা হয়। ৯। মহিলা মাদ্রাসায় অখিল ব্রাদার্স এর পাওনা টাকা মাদ্রসার আয় ব্যয় এর ক্যাশ খাতা অনুযায়ী ৮,৪১,৮৩০/- টাকা কিন্তু পাওনাদার অখিল ব্রাদার্স এর বাকী খাতার হিসাব অনুযায়ী গত ১৭/০৩/২০২৪ ইং তারিখে ৩৬,৯৪,৬৫৭/- পাওনা রয়েছে বলে তাগাদা আসে। এতে বুঝাগেল পাওনাদারদের টাকা অফিস থেকে নেওয়া হলেও পাওনাদারকে দেওয়া হয় নাই। ১০। মাদ্রাসায় ফুলগাছ লাগানোর জন্য টাকা কালেশান করা হয় অথচ উক্ত টাকার কোন রশিদ দেওয়া হয় নাই। পক্ষান্তরে ফুলগাছ ক্রয়ের নামে হাজার হাজার টাকার ভাউচার দিয়ে অফিস থেকে আবার টাকা নেওয়া হয়। (১১) হজ্ব থেকে ফিরে এসে শিক্ষক পরিষদ মিটিংএ বসে ৭৫,০০০/- টাকা মাদ্রাসার জন্য এনেছেন বললেও তার কোন রশিদ কাটা হয় নাই এবং ক্যাশ খাতায় ও জমা হয় নাই ১২। গোরাবা তহবিলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ০৯/০২/২০২৩ ইং হইতে ৩১/১২/২০২৩ ইং পর্যন্ত বিভিন্ন দাতাগণ হইতে আগত ১০,৩৭,৯৭৩/- টাকা দেখা যায় কিন্তু উক্ত টাকার কোন রশিদ কাটা বা ক্যাশ খাতায় জমা না হলেও ব্যাংক হিসাবে ব্যালেন্স শূন্য দেখা যায়।
১৩। নিজের নামের দুইটি সিমে বিকাশ একাউন্ট খুলে দাতা গনের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকার উপরে দান নেওয়া হয়েছে, তার কোন রশিদ এখন পর্যন্ত কাটা হয়নি। সেই হিসাব ও মাদ্রাসার হিসাব বহিতে আসে নাই।
এ ব্যাপারে তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি বলেন কমিটির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে কথা বলা নিষেধ আছে।
স্থানীয়দের ধারণা, এ ব্যাপারে দ্রুত সমাধান না করলে মাদ্রাসাটির পূর্বের ইতিহাস ঐতিহ্য বিলুপ্ত হবে এবং যেকোনো মুহূর্তেই পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক মারামারি ও গন্ডগোলের সম্ভাবনা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :