1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

ফরিদপুরের মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতায় বেপরোয়া নিষিদ্ধ জালের সিন্ডিকেট।

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ২৬ Time View

ফরিদপুরের মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতায় বেপরোয়া নিষিদ্ধ জালের সিন্ডিকেট।

মোঃআরাফাত হোসেন
ফরিদপুর উপজেলা প্রতিনিধি

বিস্তারিত সংবাদ :_পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় দেশীয় মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের মূল হাতিয়ার নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ জালের উৎপাদন ও দেশব্যাপী পাচারের রমরমা কারবার চলছে। উপজেলার ডেমরা ইউনিয়ন এখন এই নিষিদ্ধ জালের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে প্রায় প্রতিদিনই বড় বড় ট্রাক যোগে এই অবৈধ জাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, এই জালের মূল কারখানাগুলো গোড়াতেই বন্ধ করা সম্ভব হলে দেশব্যাপী এর সরবরাহ ও ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব।
অথচ সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সির চরম উদাসীনতা, নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মৎস্য কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক নীরবতায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে দেশীয় মৎস্য ও জলজ জীববৈচিত্র্য, যার ফলে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছে স্থানীয় জনমনে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডেমরা ইউনিয়নের বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদিত এই সূক্ষ্ম ও ক্ষতিকারক জাল মাছের রেণু, পোনা থেকে শুরু করে যেকোনো জলজ প্রাণীকে ছেঁকে তুলে নিয়ে আসছে। এই কারখানাগুলো চালু থাকায় দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়েছে। এই নিষিদ্ধ জাল অত্যন্ত সুকৌশলে গভীর রাতে বড় বড় ট্রাকে লোড করে সড়কপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করা হচ্ছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও অবৈধ কারখানা সিলগালা করার প্রধান দায়িত্ব যেখানে মৎস্য বিভাগের, সেখানে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সি সম্পূর্ণ হাত গুটিয়ে বসে আছেন। তার দপ্তর থেকে কখনো এসব কারখানায় তদারকি করা হয়নি, এমনকি পাচার রুখতে কোনো চেকপোস্ট বসানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। জনমনে এখন সোচ্চার প্রশ্ন—মৎস্য কর্মকর্তার কাজ কি শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে থেকে মাস শেষে সরকারি বেতন তোলা? কেন তিনি নিজ উদ্যোগে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না?
মৎস্য দপ্তরের এমন চরম ব্যর্থতার বিপরীতে সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে ফরিদপুর উপজেলা প্রশাসন। মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে কোনো ধরনের আগাম তথ্য বা সহযোগিতা না পাওয়া সত্ত্বেও, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমির) অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তারা সম্পূর্ণ নিজস্ব সোর্স এবং স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে চলেছেন।
উপজেলা প্রশাসনের এই প্রশংসনীয় তৎপরতার কারণে প্রায়শই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনের এই বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণেই বিভিন্ন সময় নিষিদ্ধ জালের চালান জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা প্রশাসনের এই কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা না থাকলে ফরিদপুর এতদিনে পুরোপুরি নিষিদ্ধ জালের অভয়ারণ্যে পরিণত হতো।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, যে অভিযান ও তদারকি মৎস্য কর্মকর্তার নিজ উদ্যোগে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে করার কথা ছিল, সেখানে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ ও নিষ্ক্রিয়। তার এই চরম দায়িত্বহীনতার কারণে উপজেলা প্রশাসনকে মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে বাড়তি চাপ ও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলেরা অবিলম্বে ডেমরা ইউনিয়নসহ উপজেলার সকল নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের কারখানা চিরতরে বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসনের আরও কঠোর ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে, সরকারি দায়িত্ব অবহেলা করে দেশীয় মৎস্য সম্পদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া নিষ্ক্রিয় মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সির বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :