
ধানকোড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য ও বিচারাধীন জমীতে খারিজ অনুমোদনের অভিযোগ, বিপাকে জমির মালিকরা
জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত এক ভূমি সহকারীর বিরুদ্ধে বিচারাধীন জমিতে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে খারিজ অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চলমান একটি দেওয়ানি মামলাভুক্ত জমিতে প্রায় তিন লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে খারিজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী ও আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, সাটুরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দায়ের করা দেওয়ানি মোকদ্দমা নং-১৯৭/২০২১ বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলা নিষ্পত্তির আগেই সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে বিতর্কিত জমির খারিজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে খারিজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার খল্লি ধানকোড়া মৌজার এসএ ১৩ নম্বর খতিয়ানভুক্ত এসএ ৩৮০ ও ৩৮১ নম্বর দাগের মোট ৪১ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বাদীপক্ষের দাবি, খরিদসূত্রে তারা জমির বৈধ মালিক এবং পরবর্তীতে জমিগুলো আরএস ৭৪৩ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নাসির উদ্দিন ও শাসির উদ্দিন তাদের অংশীয় ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ভোগদখল করে আসছিলেন। পরে ২০২০ সালের ২৭ জুলাই সাটুরিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত ১৪৬৯ নম্বর এওয়াজনামা দলিলের মাধ্যমে জমিটি বাদীপক্ষের অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষের পিতা মৃত হাতেম আলী চৌধুরীর নামে ১৯৯২ সালের ৪৭৬২ নম্বর এবং ১৯৯৩ সালের ১৫৮৮ ও ৩৬৭০ নম্বর দলিলের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, এসব দলিলের বিক্রেতা লাল মিয়া ও মুক্তি শেখের ওই জমির ওপর কোনো বৈধ মালিকানা ছিল না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দলিলগুলোকে ফলবিহীন ও অকার্যকর ঘোষণার আবেদন জানিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লাল মিয়া ওরফে কেটু বলেন, “এই জমির কোনো কাগজপত্রের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
তার ছেলে আব্দুস সালাম বলেন, “কাগজপত্রে আমাদের নাম না থাকায় আমরা কখনো খাজনা দিইনি। সবকিছু জেনেশুনেই তারা জমি কিনেছে। এখন তারা কী করছে, সে বিষয়ে আমরা অবগত নই।”
মামলার বাদীরা হলেন মো. আব্দুল গণি, নোয়াব আলী, মো. সামসুল হক, সোরহাব হোসেন ও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। অপরদিকে বিবাদী হিসেবে রয়েছেন আব্দুল হালিম, মামুন হোসেন, সালমা আক্তারসহ আরও কয়েকজন।
বাদীপক্ষ আদালতে তফশিলভুক্ত জমির ওপর তাদের স্বত্ব ঘোষণার পাশাপাশি বিবাদীপক্ষের দলিলগুলো অকার্যকর ঘোষণার আবেদন করেছেন। মামলার তায়দাদের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিতর্কিত জমির খারিজ অনুমোদন দেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী মো. শহিদুল ইসলাম প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থের বিনিময়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভূমি সহকারী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি নীতির বহির্ভূত কোনো কাজ করি না।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও দাবি করা প্রকৃত মালিকপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply