
ব্রেকিং নিউজ
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজা, গাঁজার গাছ ও বিপুল বৈদেশিক মুদ্রাসহ ৩ জন গ্রে*ফ*তা*র; পলাতক হালিমকে ধরতে জোর অভিযান দাবি।
মোঃ রাজিবুল ইসলাম রাজিব (সমগ্র ঢাকা বিশেষ প্রতিনিধি)
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গাঁজা, একটি গাঁজার গাছ এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
একই ঘটনায় একজন আসামি পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, গ্রেফতারকৃতদের পাশাপাশি এই মাদক চক্রের নেপথ্যের হোতা, অর্থদাতা, আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা এবং সহযোগীদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী-এর নির্দেশনায় এবং ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুব আলম-এর তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ রফিক, বিপিএম-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল গত ১১ জুন ২০২৬ রাত ৮টা ১৫ মিনিট থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে মিস্ত্রিবাগ এলাকার একটি বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং একাধিক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. মোঃ মিলন গাজী (৩০)
২. মোঃ জামান খান (৪৩)
৩. মোসাঃ মিনু বেগম (৪৫)
এছাড়া মামলার অপর আসামি মোঃ হালিম ওরফে ডিব্বা হালিম (৫০) পলাতক রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মোঃ মিলন গাজী-এর হেফাজত থেকে একটি পলিথিনের ভেতরে কাগজে মোড়ানো ২৫ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে মোঃ জামান খান-এর কাছ থেকে ২০ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে গ্রেফতারকৃত মিনু বেগম এবং পলাতক হালিম ওরফে ডিব্বা হালিম-এর বসতবাড়ির পেছনে চাষ করা অবস্থায় প্রায় ৪ ফুট উচ্চতার একটি গাঁজার গাছ উদ্ধার করে পুলিশ।
উদ্ধারকৃত গাঁজা ও গাঁজার গাছের মোট ওজন প্রায় ১৮০ গ্রাম বলে জানানো হয়েছে।
শুধু মাদকই নয়, অভিযানে ওই বাড়ির ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন দেশের কয়েনও জব্দ করা হয়েছে।
জব্দকৃত মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ভারতীয় রুপি, পাকিস্তানি মুদ্রা, কুয়েতি মুদ্রা, জর্ডানের মুদ্রা, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট ও কোয়ার্টার ডলার, তুরস্কের লিরা, মালয়েশিয়ার সেন্ট, বাহরাইনের মুদ্রা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম এবং সৌদি আরবের রিয়ালসহ বিভিন্ন দেশের বিপুল সংখ্যক কয়েন ও মুদ্রা।
পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়া বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার উৎস এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অবৈধ লেনদেন বা আন্তঃজেলা অপরাধী নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধুমাত্র মাঠপর্যায়ের মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতার করলেই হবে না; বরং তাদের পেছনে কারা অর্থ জোগান দিচ্ছে, কারা নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে এবং কোথা থেকে মাদক সংগ্রহ করে এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে—সেসব তথ্যও উদঘাটন করা জরুরি।
এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে যারা মাদকের বিস্তার ঘটিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
একইসঙ্গে পলাতক হালিম ওরফে ডিব্বা হালিম-কে দ্রুত গ্রেফতার করে তার মাধ্যমে পুরো চক্রের নেপথ্যের ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মাদক, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ফতুল্লা
মডেল থানার অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply