
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে ভুয়া প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ
মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে—কাজ না করেই বিল উত্তোলন, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, নামমাত্র কাজ করে পুরো বরাদ্দ আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বিল বাণিজ্য এবং ঠিকাদার-কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঘুষ বাণিজ্যের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলা পরিষদের এডিপি ও উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে—এই বরাদ্দের বড় একটি অংশ প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াই আত্মসাৎ করা হয়েছে।
বিশেষ করে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আব্দুর রশিদের নাম ব্যবহার করে তার আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পে জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী মাসুদ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মসজিদ, ঈদগাহ, মাদ্রাসা, ক্লাব ও সড়ক উন্নয়নের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে কাজ হয়নি বা নামমাত্র কাজ করা হয়েছে।
খুবদিপুর ঈদগাহে ১০ লাখ, কদমতলা জামে মসজিদে ১৫ লাখ এবং আলামিন জামে মসজিদে ৫ লাখ টাকার বরাদ্দ থাকলেও কাজের মান ও পরিমাণ নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। একইভাবে কৃষ্ণনগরের একটি মসজিদে ১০ লাখ টাকার প্রকল্পেও নামমাত্র কাজের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—অনেক প্রকল্পের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। যেমন, জামিয়া ইমদাদিয়া তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কিছু ক্ষেত্রে একই প্রকল্পে একাধিকবার বরাদ্দ দেখিয়ে টাকা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্যরা জানিয়েছেন, আগে করা কাজকে পুনরায় দেখিয়ে নতুন বরাদ্দ তুলে নেওয়া হয়েছে।
সিপিপিসি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান প্রকৃত অর্থের অর্ধেকও পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বাকিটা ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
দাদাভাই ক্লাবের নামে বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে, যেখানে ক্লাবের কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী মাসুদ বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, “আপনারা সাংবাদিক যত পারেন লিখেন, কিছুই করতে পারবেন না। টাকার ভাগ সবাই পায়।”—এমন বক্তব্য জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, তারা নিয়ম মেনেই কাজ করেছেন এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন।
জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, এসব অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
স্থানীয়দের দাবি, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply