
দশমিনায় ৩ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এইচ.এম.নুরনবী,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দশমিনায় ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার আশ্বাস দিয়ে তিন লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
টাকা ফেরত চাইতে বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তার সামনেই এ অভিযোগ তোলেন গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা। এ সময় টাকা লেনদেন নিয়ে দুপক্ষের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
*যেভাবে ঘটনার শুরু*
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৫ নম্বর দক্ষিণ খারিজা বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত ছিল। পরে কেন্দ্রটি পরিবর্তন করে একই ওয়ার্ডের খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের জন্য এমএ সজীব আহমেদ নামে এক ব্যক্তি আবেদন করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হারুন ব্যাপারি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
*অভিযোগকারীর দাবি*
হারুন ব্যাপারির অভিযোগ, আগের স্থানেই ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার আশ্বাস দিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। পরে কালাম পঞ্চায়েত নামে গণঅধিকার পরিষদের আরেক নেতার মাধ্যমে কিছু টাকা এবং অবশিষ্ট টাকা তিনি নিজে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেন।
হারুন ব্যাপারির দাবি, গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত খসড়া তালিকা এবং ২৭ অক্টোবরের চূড়ান্ত তালিকায় আগের স্থানেই ভোটকেন্দ্র বহাল রাখা হয়। তবে আবেদনকারী এমএ সজীব আহমেদ নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে ২ নভেম্বর আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তার আবেদনের পক্ষে ভোটকেন্দ্র পুনঃস্থাপন করা হয়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হারুন ব্যাপারি ও তার সঙ্গে থাকা অন্য নেতারা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে দেওয়া টাকা ফেরত চান।
*ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে*
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদারের সামনেই হারুন ব্যাপারি তার বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন। এ সময় কালাম পঞ্চায়েতও টাকা লেনদেনের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কর্মকর্তাকে নিজের হাতে দেওয়া টাকা আগেই ফেরত নিয়েছেন। পুরো কথোপকথনের সময় নির্বাচন কর্মকর্তাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীরব থাকতে দেখা যায়।
*কর্মকর্তার বক্তব্য*
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার জানান, ভোটকেন্দ্র বহাল রাখা কিংবা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তার নয়, এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। অভিযোগকারীদের দাবি অসত্য। তিনি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি; তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
*জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পরিদর্শন*
এদিকে, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে দশমিনা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় পরিদর্শন করেন পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান মুন্সী। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় একাধিক মহল তদবির করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার আশ্বাসে অর্থ লেনদেন এবং পরবর্তী সময়ে টাকা ফেরত চাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply