1. admin@durnitirtalashteam.com : durnitirtalashteam :
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
November 5, 2026, 4:01 pm

নারায়ণগঞ্জে ১২০ টাকার খতিয়ান মিলছে ৫০০ টাকায়: রেকর্ড রুমের কর্মকর্তা জাফরের ‘ঘুস বাণিজ্য’ তুঙ্গে

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, November 5, 2026
  • 23 Time View

নারায়ণগঞ্জে ১২০ টাকার খতিয়ান মিলছে ৫০০ টাকায়: রেকর্ড রুমের কর্মকর্তা জাফরের ‘ঘুস বাণিজ্য’ তুঙ্গে

ব্যুরো চিফ:
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও নতুন নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো ধরনের খতিয়ান বা পর্চার (এসএ খতিয়ানসহ) সার্টিফাইড কপি ও অনলাইন কপির জন্য সরকারি ফি ১০০ টাকা এবং সেবা ফি ২০ টাকা—সর্বমোট ১২০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকারের এই জনবান্ধব ও ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুমে চলছে অবাধ ঘুস বাণিজ্য। আর এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে নাম এসেছে রেকর্ড রুমের কর্মরত কর্মকর্তা মোঃ জাফর ইকবালের (যিনি আবু জাফর নামেও পরিচিত)। তার বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও হয়রানিতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুম থেকে একটি এসএ, পর্চা বা খতিয়ান তুলতে যেখানে মাত্র ১২০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা, সেখানে মোঃ জাফর ইকবাল সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে এক একটি কপির জন্য ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করছেন। অর্থাৎ প্রতিটি খতিয়ানে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন।

পর্দার আড়ালের হিসাব: মাসে লাখ টাকার অবৈধ বাণিজ্য
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য এবং রেকর্ড রুমের প্রতিদিনের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কর্মকর্তা জাফর ইকবাল প্রতিদিন গড়ে ন্যূনতম ১৫টি এসএ পর্চা বা খতিয়ানের কাজ করে থাকেন। প্রতিটি খতিয়ানে গড়ে ৩৮০ টাকা অতিরিক্ত নিলে প্রতিদিন তার অবৈধ আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫,৭০০ টাকা। এই ধারাবাহিকতায় মাসে (২০ কর্মদিবস হিসাবে) শুধুমাত্র এই একটি খাত থেকেই তার পকেটে ঢুকছে প্রায় ১,১৪,০০০ (এক লাখ চৌদ্দ হাজার) টাকা।

আইনের তোয়াক্কাহীন এক ‘ক্ষমতাধর’ চরিত্র
ডিজিটাল ভূমি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার যখন বদ্ধপরিকর, তখন ডিসি অফিসের ভেতরেই খোদ সরকারি কর্মকর্তার এমন প্রকাশ্য ঘুস বাণিজ্য সচেতন মহলকে হতবাক করেছে। সাধারণ সেবাগ্রহীতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাড়তি টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা, আজ নয় কাল আসতে বলা এবং নানা ধরনের অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানি করা এই জাফরের নিত্যদিনের স্বভাব। কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেন না এই আবু জাফর।

রেকর্ড রুমের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসে একজন কর্মকর্তার এমন বেপরোয়া আচরণ ও দুর্নীতির পেছনে অন্য কোনো শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—তার এই ক্ষমতার রহস্য কোথায়? কেনোই বা তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না? কে থামাবে এই আবু জাফরের ঘুস বাণিজ্য?

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কড়া নজরদারি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি