1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

সিলেটের গোয়াাইঘাটে নৌকা চুরির অপবাদে যুবকের দুই চোখ উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৪৫ Time View

সিলেটের গোয়াাইঘাটে নৌকা চুরির অপবাদে যুবকের দুই চোখ উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা

মোঃ আব্দুর রব : সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বর্বরোচিত ও নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে।

মাত্র একটি ছোট নৌকা চুরির অপবাদে খালেদ আহমদ (২০) নামে এক যুবকের দুই চোখ উপড়ে ফেলেছে স্থানীয় একদল প্রভাবশালী ও তাদের সহযোগীরা। বর্তমানে ওই যুবক সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় লড়ছেন।

আহত খালেদ আহমদ গোয়াইনঘাট উপজেলার ৮নং তোয়াকুল ইউনিয়নের লাকী গ্রামের সোনাই মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন দিবাগত রাতে তোয়াকুল ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের মোস্তাক আহমদের বাড়ির পুকুর থেকে একটি ছোট নৌকা চুরি হয়। এই চুরির জন্য খালেদ আহমদকে সন্দেহ করা হয়।

পরদিন রবিবার ২৮ জুন বিকেল ৫টার দিকে খালেদ তোয়াকুল বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সওদা করতে এলে শাহপুর গ্রামের মোস্তাক আহমদের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ধরে।

অভিযুক্তরা হলেন— শাহপুর গ্রামের মোস্তাক আহমদ, পছাই মিয়া, সেলিম আহমদ, ফখরুল ইসলাম, ইলিয়াস মিয়া, তোতা মিয়া এবং সিরাজ উদ্দিন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে খালেদকে বাজার থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে মোস্তাকের বাড়িতে নিয়ে যায়।

সেখানে তার ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক নির্যাতন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে খালেদের দুটি চোখ উপড়ে ফেলে।

আহত খালেদ যখন যন্ত্রণায় নিস্তেজ হয়ে পড়েন, তখন অবস্থা বেগতিক দেখে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

খবর পেয়ে খালেদের মা কুটনা বেগম হাসপাতালে ছুটে যান এবং তাকে হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

এ বিষয়ে তোয়াকুল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য লোকমান আহমদ জানান, খালেদকে অপহরণের খবর পেয়ে আমি অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাকে নির্যাতন না করে আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশে দেওয়ার অনুরোধ জানাই। কিন্তু তারা আমার কোনো কথাই শোনেনি এবং বর্বরোচিত এই কান্ডটি ঘটায়।

তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লোকমান উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। আমি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় মেম্বারকে পাঠিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছি, কিন্তু দুর্বৃত্তরা কারো কথা তোয়াক্কা করেনি।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :