
এই সমাজে কিছু সাংবাদিক নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যেন সাংবাদিকতা শুধুই তাদের বাপ-দাদার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি। আশপাশে থাকা অন্য সাংবাদিকদের তারা কাজ করার সুযোগ দিতে চান না; এমনকি সংবাদ সংগ্রহের সময় ঠিকমতো দাঁড়ানোর সুযোগটুকুও দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
তাদের আচরণে মনে হয়, তারা যেন বিশেষ কোনো শ্রেণির মানুষ, আর বাকিরা তুচ্ছ। অথচ বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তাদের অনেককেই চেনেন না। মাঠে-ঘাটে, রাজপথে কিংবা সাধারণ মানুষের পাশে তাদের খুব একটা দেখা যায় না। বরং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মতবিনিময় সভা, প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠান কিংবা সরকারি অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রেই তাদের বেশি দেখা যায়। এমন অভিযোগও রয়েছে যে, কেউ কেউ নিজেদের পরিবারের সদস্যদেরও প্রেসক্লাবের সদস্য বানিয়ে নানা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এবার আসি মূল ঘটনায়।
ছবিতে লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত যাদের দেখছেন, তারা শুধু সাংবাদিকই নন—তাদের বিরুদ্ধে একজন সহকর্মী সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর একটি অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে ঢাকা থেকে যান কালবেলার মোজো রিপোর্টার হোসাইন রুমেল।
ব্রিফিং চলাকালে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক তাকে সরে দাঁড়াতে বলেন। রুমেলের দাবি, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে তখন তার পক্ষে সরে যাওয়া সম্ভব ছিল না।
ব্রিফিং শেষে স্থানীয় আমতলা বাজারে ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি শাহবান রশীদ চৌধুরী অনি তাকে আলাদা করে ডেকে নেন। এরপর অভিযোগ অনুযায়ী, একজন তার গলা চেপে ধরেন এবং কয়েকজন মিলে তাকে কিল-ঘুষি ও মারধর করেন।
অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন—চ্যানেল ওয়ানের জেলা প্রতিনিধি শাহজাহান আহমদ, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি শেখ সিরাজুল ইসলাম, মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার মু. ইমাদ উদ-দীন, ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি শাহবান রশীদ চৌধুরী অনি এবং জনবাণীর কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি জামাল হোসেন তারেক।
এছাড়া, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার এস. এম. উমেদ আলীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন বলে জানা গেছে।
যদি এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই। পাশাপাশি, সাংবাদিকের ওপর সাংবাদিকের এমন ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সাংবাদিকতা কখনোই ক্ষমতার প্রদর্শনের মাধ্যম নয়; এটি সত্য, ন্যায় ও মানুষের অধিকার রক্ষার একটি মহান পেশা।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply