1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

মাদক নির্মূলে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন দ্রুত বিচার ও সামাজিক প্রতিরোধ: র‍্যাব মহাপরিচালক”

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ৩৭ Time View

“মাদক নির্মূলে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন দ্রুত বিচার ও সামাজিক প্রতিরোধ: র‍্যাব মহাপরিচালক”

ঢাকা, ৩ জুন ২০২৬: মাদক, দুর্নীতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে র‍্যাব সদর দপ্তরে র‍্যাবের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) আহসান হাবীব পলাশ-এর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় আধুনিক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, ক্যাট আধুনিক সাস্ক হু সাপোর্ট ফোরামের সভাপতি, “দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই”-এর আহ্বায়ক এবং ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর প্রকল্প উপদেষ্টা মো. নিয়ামত আলী-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সোমালিয়ার দারুসালাম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও ক্যাট আধুনিক সাস্ক হু সাপোর্ট ফোরামের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাহমিনা খানম ছবি, দৈনিক উন্নয়ন বার্তার সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতা শেখ মঞ্জুর বারী মঞ্জু, সাংবাদিক নেতা মুক্তা মিয়া, রিল্যাক্স গ্রুপের সিইও এনায়েত এইচ খান, মো. রাশেদ ভুঁইয়া, অধ্যাপক ড. শওকত আরমানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মতবিনিময় সভায় দেশে মাদকের বিস্তার, অপরাধ বৃদ্ধি, বিচার ব্যবস্থার জটিলতা এবং সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে র‍্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেন, মাদক নির্মূলের মূল দায়িত্ব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের, তবে মাদকবিরোধী অভিযানে র‍্যাব সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দীর্ঘসূত্রিতা, মামলার জট, বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে অবহেলা। এর ফলে অনেক অপরাধী শাস্তির বাইরে থেকে যাচ্ছে এবং তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অপরাধ বাড়ছে, যা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মহাপরিচালক আরও বলেন, শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবারের সচেতনতাই মাদক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
আলোচনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারের বিষয়টিও উঠে আসে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে সীমান্তপথে মাদক প্রবেশের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে বলে মত প্রকাশ করা হয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব বলে উপস্থিত বক্তারা মত দেন।

সভায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, মাদক প্রতিরোধে পুলিশসহ সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কোনো বাহিনীর পক্ষেই এককভাবে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।
উপস্থিত বক্তারা বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা ও বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, যারা অপরাধ থেকে ফিরে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়, তাদের জন্যও ন্যায়সঙ্গত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আলোচনায় সরকারের মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
এ সময় প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, সীমান্তপথে মাদক প্রবেশ বন্ধ করা গেলে দেশের অভ্যন্তরে মাদক বিস্তারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এজন্য বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনসাধারণের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়; এটি একটি জাতীয় ও সামাজিক আন্দোলন। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্রুত ও ন্যায়ভিত্তিক বিচার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভার শেষে র‍্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও অপরাধ দমনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত সকলেই মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং একটি নিরাপদ, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের বিকল্প নেই বলে মত প্রকাশ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :