1. admin@durnitirtalashteam.com : durnitirtalashteam :
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
September 3, 2026, 5:01 am

দুই দশক পর নির্বাচন, নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় বাজার

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, September 2, 2026
  • 30 Time View

দুই দশক পর নির্বাচন, নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় বাজার

মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ

একটি কমিটি, ২১ বছর ধরে নির্বাচন নেই। নেই নিয়মিত নেতৃত্ব পরিবর্তন। নেই ব্যবসায়ীদের জন্য নিজস্ব কার্যালয়, মহিলা টয়লেট, কল্যাণ ফান্ড কিংবা চিকিৎসা সহায়তা। বাজার ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষায়ও দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকার অভিযোগ। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর অবশেষে সেই স্থবিরতায় ছেদ পড়ছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। আর এই নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশের মুখে এখন একটাই কথা—‘নেতৃত্বে পরিবর্তন চাই।’
দীর্ঘ ২১ বছর পর নির্বাচনকে ঘিরে কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় বাজারে এখন উৎসবের আমেজ। ২০টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৩ জন প্রার্থী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় সরগরম বাজার। ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় বদলে গেছে পুরো বাজার এলাকার চিত্র।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে। এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এস আলম নিটিংয়ের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মোঃ শাহ আলম ও মেসার্স জনতা ক্লথ স্টোরের মালিক রওশন আমিন আজাদ রিন্টু। শাহ আলম ‘হরিণ’ প্রতীক এবং রওশন আমিন আজাদ রিন্টু ‘মোমবাতি’ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন।
মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ সম্পাদক পদে আলহাজ্ব মোঃ শাহ আলমের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে রওশন আমিন আজাদ রিন্টু দীর্ঘ ২১ বছর সাবেক মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তার ভূমিকা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
২১ বছরেও কেন নির্বাচন হয়নি?
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে ব্যবসায়ীদের ঘরোয়া ভোটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি তিন বছরের জন্য গঠিত হয়েছিল। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু ২০০৫ সালের পর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। ফলে তিন বছরের জন্য নির্বাচিত কমিটিই দীর্ঘ ২১ বছর ধরে কার্যত সংগঠনের নেতৃত্বে ছিল।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নিয়মিত নির্বাচন না হওয়ায় নেতৃত্বে নতুনদের আসার সুযোগ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন একই নেতৃত্ব থাকায় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমও একপর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়ে।
তাদের আরও অভিযোগ, ২১ বছরেও সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন, নিজস্ব কার্যালয়, বাজার ব্যবস্থাপনা ও পাবলিক টয়লেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান হয়নি। এমনকি ব্যবসায়ীদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা, দুর্যোগকালীন কল্যাণ ফান্ড এবং মামলায় আইনি সহায়তার মতো মৌলিক সুবিধাও গড়ে ওঠেনি।
‘নামেই কমিটি, কাজে কতটা?’
সাধারণ ব্যবসায়ীদের একাংশের প্রশ্ন—একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের মূল কাজ যদি হয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখা এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ করা, তাহলে ২১ বছর ধরে সংগঠনটির কার্যকর কর্মকাণ্ড কোথায়?
ভোটারদের অভিযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যবসায়ীদের পক্ষে ন্যায্য কথা বলা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আগের নেতৃত্ব কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কমিটির বক্তব্য জানা যায়নি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা এবার এমন নেতৃত্ব চান, যারা শুধু পদ-পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন না। বাজারের সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন, ব্যবসায়ীদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখবেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন।
ব্যবসায়ীদের সামনে দীর্ঘ দাবির তালিকা
বিসমিল্লাহ ক্লথ স্টোরের মালিক সুমন মিয়া, অঙ্গ আবরনীর মালিক ইউছুফ তালুকদার, রাসেল গার্মেন্টসের মালিক আবুল কালাম খান, ড্রেস পয়েন্টের মালিক রিপন মিয়া, সানমুন টেইলার্সের মালিক আব্দুস সাত্তার, মেসার্স আদব বস্ত্রালয়ের মালিক আকবর হোসেন তালাশ, আফজাল গার্মেন্টসের মালিক আফজাল হোসেন ঢালী, নিউ শাওন ফ্যাশনের মালিক আতিকুর রহমান, ফ্যাশন হাউজের মালিক আলমগীর হোসেন, আব্দুল্লাহ পান স্টোরের মালিক টিপু ইসলাম, ইয়োলো ব্র্যান্ডের মালিক শেখ আলী আজম, মেসার্স শাওন গার্মেন্টসের মালিক মোঃ আব্দুল করিম বলেন, দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ায় বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে নানা সমস্যায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে এখনো একটি মহিলা টয়লেট নেই। সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয় নেই। দুস্থ ব্যবসায়ীদের চিকিৎসা সহায়তা নেই। নেই দুর্যোগকালীন কল্যাণ ফান্ড। কন্যাদায়গ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই। মামলা-মোকদ্দমায় আইনি সহায়তারও ব্যবস্থা নেই।
তারা বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে এবার নতুন কমিটির কাছে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা অনেক।
‘যোগ্য নেতৃত্ব চাই’
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সহদপ্তর সম্পাদক পদে বিজয়ী আব্দুর রহমান রিপন বলেন, ২১ বছর ধরে নামসর্বস্ব বাজার কমিটি ছিল অকার্যকর একটি ব্যর্থ সংগঠন। দায়িত্বশীল ও সচেতন ভোটের মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী, কার্যকর ও ব্যবসায়ীবান্ধব সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।
তিনি যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ শাহ আলমকে সমর্থন জানান।
অন্যদিকে শাহ আলমের সমর্থক ব্যবসায়ীরা তাকে গুণী, দয়ালু ও উদার মনের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন বলে তারা প্রত্যাশা করেন।
পরিবর্তন নাকি পুরোনো ধারাবাহিকতা?
দীর্ঘ ২১ বছর পর নির্বাচন হওয়ায় এবারের ভোট ব্যবসায়ীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, অন্যদিকে পরিবর্তনের প্রত্যাশা—দুই পক্ষের হিসাব-নিকাশেই জমে উঠেছে ভোটের মাঠ।
তবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃত্ব, সেটি নির্ধারণ করবেন ভোটাররাই। ৪ সেপ্টেম্বরের ভোটে ব্যবসায়ীদের রায়ই বলে দেবে—কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় বাজার ব্যবসায়ী সমিতিতে পুরোনো নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা থাকবে, নাকি ২১ বছর পর শুরু হবে নতুন নেতৃত্বের অধ্যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি