
ফেরিওয়ালা থেকে কোটিপতি: ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ শিবুর ফাঁদে নিঃস্ব হাজারো যুবক অবশেষে প্রশাসনের হাতে আটক,
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার
৫নং বল্লমঝাড় ইউনিয়ন
তালুক মন দুয়ার গ্রামের
সামান্য ফেরিওয়ালা হিসেবে জীবনযাপন করা শিবু এখন কোটি টাকার মালিক। তবে তার এই উত্থানের পেছনে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার তরুণের সর্বস্ব হারানোর করুণ গল্প। জুয়া ও অবৈধ অনলাইন ক্যাসিনোর রিমোট কন্ট্রোল হাতে নিয়ে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, তার তৈরি জুয়ার ফাঁদে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অজস্র যুবক।
ফেরিওয়ালা থেকে কোটিপতি:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ জীবনযাপন করা শিবু একসময় ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে কম সময়ে বিপুল অর্থ উপার্জনের লোভ তাকে অবৈধ জুয়া ও অনলাইন ক্যাসিনোর জগতে টেনে নিয়ে যায়। ধাপে ধাপে নিজের সিন্ডিকেট বিস্তৃত করে তিনি তৈরি করেন এক বিশাল অবৈধ সাম্রাজ্য। জুয়া ও ক্যাসিনো চালনার মাধ্যমে অল্প দিনেই অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে যান এবং লাভ করেন ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ খেতাব।
হাজারো যুবকের ভিটেমাটি শেষ:
শিবুর এই অবৈধ ক্যাসিনো নেটওয়ার্কের মূল শিকার এলাকার যুবসমাজ। সহজে ধনী হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের জুয়ার নেশায় বুঁদ করে রাখতেন তিনি। প্রথমে ছোট অঙ্কের বাজিতে জয়ী করে উৎসাহ দেওয়া হতো, কিন্তু পরক্ষণেই জুয়ার নেশায় পড়ে সহায়-সম্পত্তি খোয়াতে হতো জুয়াড়িদের। শিবুর জুয়ার আড্ডায় বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টাকা ঢালতে গিয়ে বহু যুবক হারিয়েছেন সঞ্চিত অর্থ, বিক্রি করেছেন পৈতৃক ভিটেমাটি। এমনকি দেনার দায়ে অনেক পরিবার ভিটেছাড়া হতে বাধ্য হয়েছে।
ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার:
ভুক্তভোগী এক যুবকের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, “শিবুর জুয়ার জালে জড়িয়ে আমাদের ছেলে পথের ফকির হয়ে গেছে। জমিজমা শেষ করে এখন আমরা নিঃস্ব। অথচ যে এই সর্বনাশের মূলে, সেই শিবু কোটিপতি হয়ে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছে।”
অবৈধ জুয়ার থাবা থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে এবং শিবুর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply