
সড়কবাতি নষ্ট, সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে কুড়িগ্রাম পৌরসভার সড়ক-অলিগলি
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
দ্রুত সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি
সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় কুড়িগ্রাম পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে অসংখ্য সড়কবাতি। কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকলেও বাতি জ্বলে না, আবার কোথাও প্রয়োজন অনুযায়ী আলোকব্যবস্থাই নেই। এতে রাতের চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি, বাজার ও জনসমাগমস্থলের অনেক জায়গাতেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় পথচারী, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় মাসের পর মাস সড়কবাতি নষ্ট থাকলেও তা মেরামত বা প্রতিস্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।
অন্ধকারে ঝুঁকিপূর্ণ ধরলা সেতু
কুড়িগ্রাম শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ধরলা সেতু। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির বিভিন্ন অংশের সড়কবাতি দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় রাতের বেলায় সেতু ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত আলো থাকে না। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে নিয়মিত আলোকব্যবস্থা নিশ্চিত করা শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়; এটি সরাসরি জননিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে রাতে সেতু এলাকায় আলো কম থাকলে দুর্ঘটনা ও অপরাধের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
‘নাগরিক সেবা কি এভাবেই চলবে?’
পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত পৌরকর ও অন্যান্য নাগরিক সেবা-সংক্রান্ত অর্থ পরিশোধের পরও মৌলিক নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের পর দিন সড়কবাতি নষ্ট থাকলেও সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত মেরামতের জন্য কার্যকর তদারকি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সন্ধ্যার পর শহরের অনেক সড়ক ও অলিগলি অন্ধকার হয়ে যায়। এতে নারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে ভয় তৈরি হয়। একটি জেলা শহরে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়।”
আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, পৌরসভার সড়কবাতি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়মিত তদারকি থাকা প্রয়োজন। কোথাও বাতি নষ্ট হলে দ্রুত মেরামত করা হলে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা নয়।
আলো সংকট শুধু ভোগান্তি নয়, নিরাপত্তারও প্রশ্ন
স্থানীয়দের মতে, সড়কবাতির সংকটকে শুধু নাগরিক ভোগান্তি হিসেবে দেখলে সমস্যার গুরুত্ব কমিয়ে দেখা হবে। রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি অন্ধকার স্থানগুলো অপরাধীদের জন্যও সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে। ফলে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে কার্যকর আলোকব্যবস্থা থাকা জরুরি।
বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, সেতু, প্রধান সড়ক ও জনসমাগমস্থলগুলোতে পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জরুরি ভিত্তিতে তালিকা করে সংস্কারের দাবি
পৌরবাসীর দাবি, নয়টি ওয়ার্ডের প্রতিটি সড়ক ও অলিগলি পরিদর্শন করে অচল ও নষ্ট সড়কবাতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর জরুরি ভিত্তিতে সেগুলো মেরামত অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন বাতি স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ, খুঁটি ও বাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থায়ী তদারকি ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিত আলোকব্যবস্থা একটি আধুনিক ও নিরাপদ পৌর শহরের অন্যতম মৌলিক নাগরিক সুবিধা। তাই বিচ্ছিন্নভাবে বাতি মেরামতের পরিবর্তে পুরো পৌর এলাকার জন্য দীর্ঘমেয়াদি আলোকব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।
পৌরবাসীর প্রত্যাশা, নাগরিকদের দুর্ভোগ ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তাদের প্রশ্ন—একটি জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সেতু ও অলিগলি যদি সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায়, তাহলে নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে কীভাবে?
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply