
প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: জকিগঞ্জে নারীসহ যুবক আটক
মোঃ আব্দুর রব : সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের পিল্লাকান্দি গ্রামের মৃত সালেহ আহমদের মেয়ে মাহমুদা সুলতানা পলীকে ঘিরে প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ এক যুবকের পরিবারের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পর স্থানীয়রা ওই নারী ও তার সঙ্গে থাকা এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদা সুলতানা পলীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে নানা কৌশলে অর্থ ও আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অতীতেও এ ধরনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সামাজিকভাবে আপস-মীমাংসা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ইলাবাজ গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে আমজাদ হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই গত সোমবার ভোরে পরিবারের সদস্যদের ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে অটোরিকশা কেনার জন্য রাখা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে তিনি চলে যান।
স্থানীয়দের আরও দাবি, এর আগেও ওই নারীর একাধিক বিয়ে হয়েছিল। প্রতিবারই তিনি নিজেকে অবিবাহিত দাবি করলেও পরে একাধিক বিয়ের তথ্য সামনে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, তার একটি প্রায় তিন বছর বয়সী সন্তানও রয়েছে।
এ ঘটনার পর মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বারঠাকুরী ইউনিয়নের পিল্লাকান্দি (দৌলতপুর) এলাকায় স্থানীয়রা মাহমুদা সুলতানা পলী এবং সুলতানপুর ইউনিয়নের মজলী গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে রাসেল আহমদকে আটক করে জকিগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
রাসেল আহমদের বাবা অভিযোগ করেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন দুবাইয়ে প্রবাসজীবনে উপার্জিত অর্থ ওই নারীর কাছে হারিয়েছেন।
তার দাবি, ঘটনার রাতে ফোন করে রাসেলকে ওই বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার ব্যবহৃত একটি দামি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ফোনটি নিজেদের হেফাজতে রাখেন। পরে নারী ও যুবককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, এটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের অংশ হতে পারে।
তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, মাহমুদা সুলতানা পলীর মা বলেন, “মেয়ের একাধিক বিয়ে ও এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় আমাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
পরে শুনেছি মেয়েকে এক যুবকসহ ধরে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। থানায় গিয়ে মেয়েকে দেখেছি। তবে বর্তমানে মামলার অগ্রগতি বা কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা আমি জানি না।
সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, “এর আগেও আমার ইউনিয়নের এক যুবককে ওই নারী তার বাড়িতে নিয়ে আটক করেন।
পরে ওই যুবকের ভাই ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন বলে শুনেছি। বর্তমান ঘটনাটিও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
জকিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সুজন মিয়া বলেন, একজন যুবককে থানায় আনা হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply