
চকরিয়ায় পিতার স্বপ্ন পূরণে সেবার মহান ব্রতে পাঁচ বোন
মোঃ আরফাতুল ইসলাম সানি (স্টাফ রিপোর্টার)
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের মাইজঘোনা গ্রামের এক পরিবারের পাঁচ বোন পিতার স্বপ্ন পূরণে বেছে নিয়েছেন মানবসেবার মহান পেশা নার্সিং। বিশ্ব সেবিকা দিবসে তাদের এই ব্যতিক্রমী সাফল্যের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র প্রশংসা কুড়িয়েছে। একই পরিবারের পাঁচ কন্যা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সেবিকা হিসেবে কর্মরত থাকায় এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে গর্ব ও অনুপ্রেরণা।
মাইজঘোনা গ্রামের বাসিন্দা কালু সওদাগরের ১০ মেয়ে ও ২ ছেলে। মেয়েরা সবাই উচ্চশিক্ষিত ও নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। পিতা কালু সওদাগরের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল তাঁর কন্যারা মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাঁচ কন্যা নার্সিং পেশায় যোগ দিয়ে আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে পারেছা আক্তার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে, সেতারা আক্তার রিমা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, রায়হান জান্নাত আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ‘সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল’ (MSF OCB)-এ, নাজমীম সোলতানা রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং শান্তা মারিয়া জয়নব চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছেন।
সেবিকা পারেছা আক্তার বলেন, “আমাদের বাবা চেয়েছিলেন আমরা মানুষের সেবা করি। আজ আমরা পাঁচ বোন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে কাজ করছি। এই পেশা শুধু চাকরি নয়, এটি মানবতার সেবা।”
তাদের বড় বোন শিক্ষিকা মোশাররফা বেগম বলেন, “আমার পাঁচ বোন মানুষের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে, এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বাবার স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।”
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শাহীন দেলোয়ার বলেন, “একই পরিবারের পাঁচ বোন নার্সিং পেশায় যুক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। মানবসেবার এই মহান কাজে তাদের সফলতা কামনা করছি।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply