1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

বালিয়াকান্দিতে দাফনের কিছুক্ষণ পরেই মারা গেলেন স্ত্রী, ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে নিভল দম্পতির জীবনপ্রদীপ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৮৪ Time View

বালিয়াকান্দিতে দাফনের কিছুক্ষণ পরেই মারা গেলেন স্ত্রী, ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে নিভল দম্পতির জীবনপ্রদীপ
শামীম শেখ,স্টাফ রিপোর্টার

​রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় শোকের এক স্তব্ধতা নেমে এসেছে। এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর জানাজা ও দাফন শেষ হতে না হতেই স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অনেকেই এ ঘটনাকে প্রেমের এক অমর গাথা বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে একজন সঙ্গীকে ছাড়া অন্যজনের জীবন যেন এক মুহূর্তও কাটানো সম্ভব হলো না।

​ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পাইককান্দি গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দা সাত্তার খানের ছেলে মিঠু খান (৫০) ছিলেন পেশায় একজন ভ্যানচালক। কঠোর পরিশ্রম ও সততার জন্য তিনি এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। সোমবার রাতে হঠাৎ তিনি তীব্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে দ্রুত বালিয়াকান্দি উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

​আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টায় পাইককান্দি গ্রামের স্থানীয় একটি মসজিদে জানাজা শেষে মিঠু খানের দাফন সম্পন্ন হয় পাইককান্দি কবরস্থানে।

​প্রিয় স্বামীর বিদায়ের শোক সহ্য করতে পারেননি তার স্ত্রী হেনা বেগম (৪৫)। দাফনের কিছুক্ষণ পরেই তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে বালিয়াকান্দি উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা খুব দ্রুত অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। ফরিদপুর হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকেল ৪টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​স্থানীয়রা জানান, মিঠু ও হেনা বেগমের মধ্যে ছিল গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক। তারা সবসময় একে অপরের পাশে থাকতেন। তাদের এমন পরপর চলে যাওয়া গ্রামবাসীদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমরা মাত্র মিঠু ভাইয়ের দাফন শেষ করে কবরস্থান থেকে ফিরছিলাম, তখনই হেনা ভাবীর অসুস্থতার খবর পাই। আমরা ভাবতেও পারিনি যে তিনি এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন।”

​এই দম্পতির এমন রহস্যময় এবং মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো পাইককান্দি গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও এ ঘটনা নিয়ে শোক ও সমবেদনা জানানো হচ্ছে। এলাকার মানুষ এই দম্পতির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

​একদিনের ব্যবধানে একটি পরিবারের দুই স্তম্ভের চলে যাওয়ায় বালিয়াকান্দিবাসী আজ শোকাহত এবং স্তব্ধ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :