1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, শিশু হাসপাতালে পুনরায় নিয়োগের দাবি

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৭ Time View

স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, শিশু হাসপাতালে পুনরায় নিয়োগের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার বেসরকারি ডা. এম.আর. খান শিশু হাসপাতালে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ফেরও তীব্র বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করা হলেও নতুন করে অনুষ্ঠিত নিয়োগেও একই প্রার্থীদের চূড়ান্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অনেকের অভিযোগ—নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হলেও বাস্তবে “যে লাউ সেই কদু”, আগের মতোই পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, হাসপাতালের ৭টি পদের বিপরীতে প্রায় ৩০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি কক্ষে সকাল ১১টায় নিয়োগ বোর্ড বসে। সেখানে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ নীতিমালা উপেক্ষা করে আগেই নির্ধারণ করা কয়েকজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল লোক দেখানো।
নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার, হাসপাতালের প্রতিনিধি ডা. অসিত কুমার স্বর্ণকার, ডা. আবুল বাসার আরমান এবং হাসপাতালের সেক্রেটারি এম. জামান খান।
বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়। সেই ঘোষণা অনুযায়ী গত ১৪ মার্চ শনিবার সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা কালেক্টর স্কুল অ্যান্ড কলেজে পুনরায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ছিল না। প্রায় ৩০ জন আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ১৮ জন প্রার্থী পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন। তিনটি সেকশনে একক উপস্থিতির মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ভুক্তভোগী প্রার্থীদের দাবি, পুরো নিয়োগ ছিল পরিকল্পিত এবং আগেই নির্ধারণ করা প্রার্থীদেরই আবারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের ৭টি পদের মধ্যে রয়েছে—মেডিকেল অফিসার (ডাক্তার), প্রশাসনিক কর্মকর্তা, অমুসলিম নার্স, প্যাথলজি টেকনোলজিস্ট, সহকারী ডাক্তার ও নাইট গার্ড।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডাক্তার পদে ডা. তনিমা রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে মোস্তাফিজুর রহমান, অমুসলিম নার্স পদে স্মৃতি সরকার ও তনু দত্ত, প্যাথলজি টেকনোলজিস্ট পদে রাফিদ খান, সহকারী ডাক্তার পদে সৈকত মজুমদার ও শামীমা আক্তার শান্তা এবং নাইট গার্ড পদে সজিব বাবুকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আগে থেকেই এরা সিলেক্টেড।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব প্রার্থীর অনেকেই নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের আত্মীয়স্বজন বা ঘনিষ্ঠ পরিচিত। মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডা. তনিমা রহমান সংশ্লিষ্ট একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় বলে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে প্যাথলজি টেকনোলজিস্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রাফিদ খান হাসপাতালের কমিটির সেক্রেটারির আত্মীয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নাইট গার্ড পদেও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন, শরীফ আসিফ রহমান, ডাঃ অসিত কুমার স্বর্ণকার ও ডাঃ জয়ন্ত সরকার।
ভুক্তভোগী প্রার্থীদের দাবি, এই সাতটি পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু থেকেই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাইরে থেকেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এমনকি নিয়োগ সংক্রান্ত নানা অনিয়মের মধ্যে কিছু ব্যক্তির হঠাৎ সম্পদের পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট এক চিকিৎসক ডাঃ আবুল বাশার আরমান সম্প্রতি সাতক্ষীরা বাইপাস এলাকায় রমজানের আগেই জমি ক্রয় করেছেন—যা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের সেক্রেটারি এম. জামান খান বলেন, আগের নিয়োগ বোর্ড লিখিত পরীক্ষা না নিয়ে ভাইভা নিয়েছিল—এটা সত্য। তবে আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বা অনিয়ম হয়েছে—এ অভিযোগ সঠিক নয়।
অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানান, পূর্বের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছিল এবং লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন করে নিয়োগ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগী প্রার্থীদের দাবি, বাস্তবে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হলেও আগের মতোই একই প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, বিতর্কিত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় তদন্ত করে সম্পূর্ণ বাতিল করা হোক এবং সম্পূর্ণ নতুন বোর্ড গঠন করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে আবার নিয়োগ দেওয়া হোক। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়োগে সাধারণ যোগ্য প্রার্থীরা চরমভাবে বঞ্চিত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী বাজারে সবধরনের ব্যবহারিত খাস জমি বন্দোবস্ত করে নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মোঃ সাইফুল ইসলাম বালিয়াডাঙ্গী ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, ঐতিহ্যবাহী লাহিড়ী বাজারে সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মরত মোঃ জুয়েল রানা বিরুদ্ধে , স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে মোঃ জুয়েল রানা উপজেলার চাড়োল পতিলাভাষা গ্ৰামের মৃত মফিজুর ইসলাম এর ছেলে মোঃ জুয়েল রানা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে মোঃ জুয়েল রানা ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। সেই প্রভাব খাটিয়ে সবসধারণের ব্যবহাত খাস জমি নিজ মায়ের নামে বন্তবস্ত করে নিয়েছে এবং বন্দোবস্ত পরিতেক্ত জায়গায় আজ অব্দি কোন দোকান ঘর ছিল না স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য মতে জানা গেছে। এবিষয়ে মোঃ জুয়েল রানা সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন অফ দেখা যায়।

© All rights reserved © 2025

: :