1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

এসিল্যান্ড পরকীয়া: স্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬১ Time View

এসিল্যান্ড পরকীয়া: স্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী মুক্তি সরকার একাধিক চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, সন্তান নষ্টের চাপ, যৌতুক দাবি, পরকীয়ায় জড়ানো, দ্বিতীয় বিয়ে এবং সংসার ভাঙার চেষ্টা। এসব ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তি সরকার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।

মুক্তি সরকারের দাবি, ২০১৬ সালে দু’জনের পারস্পরিক পছন্দের ভিত্তিতে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। পরে ২০২১ সালে উভয় পরিবারের সম্মতিতে হিন্দু রীতিতে সামাজিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তখন তারা দুজনই শিক্ষার্থী ছিলেন। বিজয় কুমার জেলে পরিবারের সন্তান হিসেবে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ছিলেন বলে উল্লেখ করেন মুক্তি।
বিয়ের পর মুক্তি চাকরি করে সংসারের ব্যয়ভার বহন করতেন এবং উপার্জিত অর্থ স্বামীর হাতে তুলে দিতেন। তার পরিবারও বিয়েতে টিভি, ফ্রিজ, ফার্নিচারসহ নানা উপহার সামগ্রী প্রদান করে। অভিযোগ রয়েছে, এরপরও বিজয় বিভিন্ন সময় মুক্তির পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করতেন। এমনকি বাড়ি নির্মাণের জন্য জমি লিখে দেওয়ার জন্যও চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন মুক্তি।

মুক্তি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর একাধিকবার গর্ভধারণ করলে বিজয় চাকরি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অজুহাত দেখিয়ে সন্তান নষ্ট করতে চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি দাবি করেন, স্বামীর চাপে তাকে কয়েকবার গর্ভপাত করতে হয়েছে।
সন্তান নেওয়ার উদ্দেশ্যে গত বছরের অক্টোবরে তারা চেন্নাইয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। পরবর্তীতে ডিসেম্বর ২০২৫ সালে বিজয় তাকে একা চিকিৎসার জন্য চেন্নাই পাঠান এবং কয়েকদিন পর নিজেও যাওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু তিনি আর সেখানে যাননি। বরং নানা অজুহাতে মুক্তিকে বিলম্ব করতে বলেন। এ সময়ের মধ্যেই বিজয় অন্য এক নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

মুক্তি বলেন আমার সুখের সংসার ধ্বংসের পথে ছিল, আমাকে বারবার সন্তান নষ্ট করতে বাধ্য করা হয়েছে।

মুক্তি সরকারের অভিযোগ, ভারতে চিকিৎসার সুযোগে বিজয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের ফাগুনি সুমি কাসারি নামের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। ওই নারী নিজেকে বিজয়ের স্ত্রী দাবি করে মুক্তিকে ফোনে হুমকি দেন এবং তাকে স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন।
মুক্তির দাবি, ফোনে ওই নারী নিজেকে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বলেও পরিচয় দেন। এ ঘটনার পর ২২ ফেব্রুয়ারি চেন্নাই থেকে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দেশে ফেরেন মুক্তি। দেশে ফিরে তিনি দেখেন, বিজয় নিয়মিত ওই নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছেন এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো আচরণ করছেন। বিজয় নিজেও দ্বিতীয় বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ।

মুক্তির অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাকে মারধর করা হয়। অসুস্থ অবস্থায় ফেলে বিজয় বাসা থেকে চলে যান এবং অফিসেও অনুপস্থিত থাকেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্বাস্থ্য নথিতে শারীরিক আঘাতের প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন মুক্তি।

মুক্তি সরকার অভিযোগ করেন, তার মোবাইল নম্বর ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নারী পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।

তার ভাষায়, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি এমন আচরণ করেন, সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমি ন্যায় বিচার চাই। এমন শাস্তি হোক যাতে অন্য কেউ এ ধরনের কাজ করতে সাহস না পায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিজয় কুমার জোয়ার্দারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :