
৭০ লাখ টাকা মুক্তি পনের দাবিতে অপহৃত
২০ জেলের, এখনো ওমুক্তি মেলেনি
এস এইচ রতন,বাগেরহাট
৭০লাখ টাকা মুক্তি পনের দাবিতে বনদস্যু বাহিনী কতৃক বঙ্গোপসাগর থেকে ২০ জেলের অপহরণের এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো মুক্তি মেলেনি । অপহৃত প্রতিজন জেলের মুক্তিপণ হিসেবে মুঠো ফোনে মহাজনদের কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে ২০ জনকে মোট ৭০ লাখ টাকা দাবি করছে বনদস্যুরা। তবে মুক্তিপণ টাকা কমবেশি নিয়ে মহাজন ও বনদস্যুদের মধ্যে দর কষাকষি চলছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।
এদিকে দস্যু আতঙ্কে প্রায় চারদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল থেকে সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকি পল্লীর কিছু কিছু ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যাওয়া শুরু করেছে। তবে, সুন্দরবন বিভাগ জেলেদের চর উপকূলের কাছাকাছি দূরত্বে থেকে মৎস্য আহরণ এবং সাগর থেকে দিনে দিনে ফিরে আসার নির্দেশনা দিয়েছে ।
সুন্দরবন বিভাগ জানায়, গত সোমবার (১৬ ফেব্রæয়ারি) রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০ টি ট্রলার থেকে সুন্দরবনের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আওতাধীন আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর ওই ২০ জেলেকে অপহরণ করে দুর্ধর্ষ বন ও জলদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী। এঘটনার পর অপহরণ আতঙ্ক আর নিরাপত্তার অভাবে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের নিয়মিত জেলেসহ শুঁটকি উৎপাদনে নিয়োজিত জেলেরা সাগর ও বনে মাছ ধরা বন্ধ করে দেয়। এতে দেশের বৃহত্তম এই শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ মাছ সংকট দেখা দিয়েছে। অপরদিকে, মাছ ধরতে না পারায় লাখ লাখ টাকা লোকসানে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি আর্থিক সংকট দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার দরিদ্র জেলে।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় অপহৃত জেলেদের মহাজনদের বরাত দিয়ে জানান, গত সোমবার (১৬ ফেব্রæয়ারি) রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০ ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে তুলে নেওয়ার পর শুক্রবার (২০ ফেব্রæয়ারি) রাতে বনদস্যুদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে কথা বলেছেন মহাজনরা। ট্রলার প্রতি তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছে তারা। বনদস্যুদের সঙ্গে কথা বলে চাঁদার পরিমান কমানোর চেষ্টা করছেন মহাজনরা। বনদস্যুরা চাঁদা পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা বেধে দেয়নি। তবে দ্রæত পরিশোধ না করলে জিম্মি জেলেদের জীবনে ভয়াবহ পরিনতি এবং পরবর্তীতে সাগরে মাছ ধরতে হলে আগাম চাঁদা দিয়ে নামতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে মহাজনদের। চার দিন পরে শনিবার সকাল থেকে ঝুঁকি নিয়ে সাগরে নেমেছেন সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকি পল্লীর কিছু কিছু জেলে। তাদেরকে সুন্দরবন বিভাগের পক্ষ থেকে নিরাপদ দূরত্বে অস্থান নিয়ে মাছ ধরা এবং দিনে দিনে ঘাটে ফিরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকি পল্লীর অপহৃত ২০ জেলেকে উদ্ধারের বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করাসহ অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অচিরেই শুরু হবে যৌথ অভিযান শুরু হবে। বর্তমানে সুন্দরবনে সক্রিয় ৫টি বনদস্যু বাহিনীর সদস্যদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। চিহ্নিত বনদস্যুদের উপর বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই সমন্বিত যৌথবাহিনীর গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করা করাহবে। এই অভিযান চুড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে রবিবার (২২ ফেব্রæয়ারী ) সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারসহ বন বিভাগ, র্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও নৌপুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করা হয়েছে।
বাগেরহাট
২২. ০২. ২০২৬
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply