
গাইবান্ধা জজ কোর্টের এক মুহুরীর বিরুদ্ধে জমি আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধা জেলা সদর উপজেলায় এক জজ কোর্টের মুহুরীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ছদ্মবেশ ধারণ ও প্রতারণার মাধ্যমে মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে জমি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, মৃত জসমত উল্ল্যা আকন্দ ২৯/০৩/১৯৪৮ ইং তারিখে ৪০১৭/৪৮ নং দলিলমূলে গোলাবাড়ি ও রঘুনাথপুর মৌজায় মোট ৬.৯৯ একর সম্পত্তি মোছাঃ আছিরন নেছা বিবি, মোছাঃ আমিরন নেছা বিবি, মোঃ আজিজুর রহমান সরকার ও মোঃ আজিজুল হক সরকারের নিকট হেবাবিল এওয়াজমূলে হস্তান্তর করেন।
পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, মোঃ মজিবুর রহমান নামীয় এক ব্যক্তি ১৯৯০ সালের ০৫/৯০ ইং বাটোয়ারা মামলায় ৫৫ নং বিবাদি হিসেবে জড়িত থাকলেও তিনি উক্ত ৪০১৭/৪৮ নং দলিলের গ্রহীতা ছিলেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তার সহোদর ভাই আজিজুল হকের নামের সঙ্গে নিজের নাম সংযুক্ত করে আজিজুল হক ওরফে মজিবুর রহমান পরিচয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করেন এবং আজিজুল হকের সম্পত্তি আত্মসাতের লক্ষ্যে মামলার আর্জিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে রায় ও ডিগ্রি লাভ করেন।
এদিকে এস.আর অফিসের অনুসন্ধানে ১৭৯৭/১৯ নং দলিলে মজিবুর রহমানের জন্মতারিখ ১৯/০৫/১৯৫১ ইং প্রতীয়মান হয়। সে হিসেবে ২৯/০৩/১৯৪৮ ইং তারিখে সম্পাদিত দলিলে তার গ্রহীতা হওয়া আইনগত ও বাস্তবিকভাবে অসম্ভব। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি জাল পরিচয় ব্যবহার করে ভূমি সম্পূর্ণ বা আংশিক হস্তান্তর, প্রতারণার উদ্দেশ্যে মিথ্যা দলিল প্রস্তুত, সম্পত্তি গোপন বা অপসারণ এবং জাল কাগজপত্রকে খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অথচ তিনি নিজেকে জজ কোর্টের লাইসেন্সপ্রাপ্ত মুহুরী (লাইসেন্স নং-৯) হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। বি.আর.এস খতিয়ান নং ১১০৪ ও অন্যান্য সনদপত্রে তার নাম মজিবুর রহমান হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় মোঃ মিজানুর রহমান মিলন বাদী হয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলী আদালত (১), গাইবান্ধায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার সি/আর মামলা নং ১৬২৩/২৫ ইং; ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৪(১)(ঘ)/৫(১)(ক) ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪২১/৪৬৮/৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে Criminal Investigation Department (সি.আই.ডি)-তে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আদালতপাড়া ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply