1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

রাওজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার গুলিতে নি*হ*ত

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ Time View

রাওজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার গুলিতে নি*হ*ত

বিশেষ প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের রাওজানে বাড়ির সামনে প্রকাশ্যে গুলিতে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার হত্যার ঘটনা এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সহিংসতার আগুনে পুড়তে থাকা রাওজানে এই হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার এবং অস্ত্রের দাপট—সব মিলিয়ে রাওজানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

চট্টগ্রামের রাওজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট এলাকায় সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন যুবদলের সাবেক নেতা মুহাম্মদ জানে আলম সিকদার। বয়স আনুমানিক ৪৮ থেকে ৫০ বছর। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুখোশধারী তিন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে করে এসে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালায়। বুকে একাধিক গুলি লাগার পর ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা জানান, জানে আলম সিকদার অলিমিয়াহাট বাজার থেকে বাড়ি ফিরে নিজ বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রাতের ব্যস্ততার মধ্যেই হঠাৎ মোটরসাইকেলের শব্দে তিন যুবক সেখানে এসে থামে। তারা কোনো কথা না বলেই জানে আলমের দিকে গুলি ছুড়তে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশে থাকা লোকজন ভয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

গুলির শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত জানে আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে রাওজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জানে আলম সিকদার পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি রাওজান উপজেলা যুবদলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি বিএনপির নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সিকদার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা জানে আলম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অলিমিয়াহাট ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। রাতের মধ্যেই এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুলিশের তদন্ত কেন্দ্র থেকে মাত্র পাঁচশ মিটার দূরে এমন হত্যাকাণ্ড নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

খবর পেয়ে রাওজান থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাওজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কিংবা আধিপত্য বিস্তারের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হামলাকারীদের শনাক্তে একাধিক তদন্ত দল মাঠে কাজ করছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

এই হত্যাকাণ্ডকে রাওজানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রাওজানে অন্তত ১৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এসব ঘটনার মধ্যে ১৩টিকেই রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাওজানে একাধিক যুবদল কর্মী ও নেতা গুলিতে নিহত হয়েছেন। গত ২৫ অক্টোবর রাওজান পৌরসভার চারাবটতল এলাকায় যুবদল কর্মী আলমগীর আলমকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার আগে জুলাই মাসে মো. সেলিম নামে আরেক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার পেছনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বকে দায়ী করা হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকার অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলমান। এলাকাবাসীর মতে, এই দ্বন্দ্বের জেরেই একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। সাধারণ মানুষ এসব সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জানিয়েছেন, জানে আলম সিকদার বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং তার হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উপজেলা বিএনপির সাবেক এক নেতাও বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটলেও অপরাধীরা বারবার আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক সহিংসতাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা এতটাই নির্ভীক ছিল যে জনবসতির মাঝেই গুলি চালিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষায়, বাড়ির সামনে এমন হত্যাকাণ্ড দেখে মানুষ স্তব্ধ হয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে অনেকেই সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

এই হত্যাকাণ্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক নেতারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানালেও সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, শুধু টহল নয়, রাজনৈতিক সহিংসতার মূল উৎস চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাওজানের মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায়। জানে আলম সিকদারের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি রাজনৈতিক হত্যাই নয়, এটি রাওজানের দীর্ঘদিনের অস্থির বাস্তবতার আরেকটি রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :