1. admin@pratidindurnitirtalash.com : pratidindurnitirtalash : pratidindurnitirtalash
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

৪ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস!

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ২৮ Time View

৪ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে হরিদাস
চন্দ্র তরনী দাস!

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:–গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে অর্থপাচার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছে সিআইডি। তার দেওয়া তথ্য ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন এবং মানিলন্ডারিং মামলা তদন্তকাজে সহায়ক হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন এ তথ্য জানান।

৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম গত ১৩ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে ওইদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডি পুলিশের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইন্সপেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা।

আবেদনে বলা হয়, হরিদাস চন্দ্র তরণীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে তার ব্যাংক হিসাব এমএফএস হিসাবগুলোতে কারা কী কারণে অর্থ জমা করেছে এবং ওই জমা করা অর্থ কার কাছে হস্তান্তর বা কোথায় কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে; যা মানিলন্ডারিং মামলা তদন্ত কাজে সহায়ক হবে। আসামির দেওয়া তথ্যগুলি যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। হরিদাস চন্দ্র তরণী জামিন পেলে মামলার তদন্তে ব্যঘাত ঘটবে।

হরিদাসের পক্ষে তার আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত হরিদাসের কাছে জানতে চান তিনি কী করেন। হরিদাস বলেন, ‘ব্যবসা করি।’ কীসের ব্যবসা করেন বিচারক জানতে চাইলে হরিদাস বলেন, ‘চাল, ডালের ব্যবসা।’ ব্যবসার লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাইল হরিদাস বলেন, ‘আছে।’

এলাকায় একটা মন্দির আছে। এই মন্দিরের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আদালতকে জানান হরিদাস। পরে আদালত জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। অনুসন্ধানের অভিযোগ পর্যালোচনায় জানা গেছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং তিনি ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেমি মুদ্রা পাচারসহ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার নামে থাকা ৯ ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য কাগজপত্র বিশ্লেষণে জানা গেছে, তার ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসা বর্হিভূত নগদ অর্থ জমা হয়েছে।

হরিদাস চন্দ্র তরণীসহ অজ্ঞাত দুই-তিন জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র হুন্ডি তথা ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার’ করতো। ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অপরাধলব্ধ অর্থ অর্জনসহ অর্জিত টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা গোপন ও ছদ্মাবৃত্ত করেছে।

সম্প্রতি পলাশবাড়ী উপজেলায় রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে হিন্দু দেবতা রামের বিগ্রহ নির্মাণকাজ শুরু করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এটি হবে ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রাম বিগ্রহ।

এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইমাম ওলামা পরিষদ আন্দোলনে নামলে গত ৯ জুন বিগ্রহ নির্মাণের কাজ স্থগিত করে মন্দির কমিটি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থানের পর হরিদাস ২০২৪ সালে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তিনি গ্রামের কালী মন্দিরের পুরনো অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
তথ্য সুত্র:- দৈনিক ইত্তেফাক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025

: :