
সোনারগাঁওয়ে দালালের খপ্পরে ৬ যুবক, লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন; ক্ষতিপূরণ দাবী..!
মোঃ রাজিবুল ইসলাম রাজিব ( সমগ্র ঢাকা)
সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার চেঙ্গাকান্দি গ্রামের মোঃ নবীন হোসেন’র পুত্র মোঃ আনোয়ার হোসেন কর্তৃক হামছাদী ও ভালুয়া দীঘিরপাড় এলাকার উদীয়মান ছয়জন যুবককে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়া নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাদের কোন কাজকর্মের ব্যবস্থা না করে, তাদেরকে একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে তাদেরকে জিম্মি করে রেখেছিলো প্রায় আড়াই বছর। তারা মৃত অবস্থায় পতিত হলে, তাদেরকে দেশে পাঠানোর কোন উদ্যোগই ছিলো না। তিলে তিলে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য ছিলো। ভাগ্যক্রমে তারা সরকারী খরচে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
একটি সূত্রে জানা যায়- সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউপির বাংলাবাজার এলাকার চেঙ্গাকান্দি গ্রামের নবীন হোসেন’র ৩ ছেলে মিলে এলাকার গরীব অসহায় লোকদের উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তারা লিভিয়া নিয়ে যায়। সেখানে নবীন হোসেন’র দুই পুত্র ইমাম হোসেন ও কবির হোসেন তাদেরকে ঘরে আটকে রেখে জিম্মি করে বিভিন্ন নির্যাতন চালাতো। কোন কাজ-কর্ম তারা দিতো না। সম্পূর্ণ দিনের মধ্যে এক বেলা খাবার দিতো। এভাবেই অনেক লোক জিম্মি করে তারা আটকে রাখতো।
প্রত্যেক জনের কাছ থেকে তারা প্রায় চার লক্ষ্য পঞ্চাশ হাজার টাকা করে নিয়ে যেতো। এভাবেই মানব পাচারকারী দালালেরা কোটি কোটি টাকা ইনকাম করে এলাকায় ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেন। এবং বিঘায় বিঘায় জমি ক্রয় করেন। ভুক্তভোগীরা দেশে ফিরে এসে তাদের কাছে বিভিন্ন নির্যাতনের কথা বলে ক্ষতিপূরণ দাবী করলে, তারা বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে এবং চাঁদাবাজী মামলার ভয় দেখিয়ে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগীরা হলেন- হাফেজ’র পুত্র মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৭) গ্রাম হামছাদি, রফিকুল ইসলাম’র পুত্র রাকিব (২৬), আব্দুল বাতেন’র পুত্র মোঃ সাইদুর রহমান (৩০), মোহাম্মদ আলী’র পুত্র মাহবুবুর রহমান (৩২) গ্রাম হামছাদি, গাফফার’র পুত্র সাইদুল ইসলাম (২৩) গ্রাম বালুয়া দিঘির পাড়, সর্ব থানা সোনারগাঁও, আব্দুল হাকিম’র পুত্র কামরুল ইসলাম (২৮) গ্রাম ধামগর থানা বন্দর।
নিরুপায় হয়ে ক্ষতিপূরণের দাবীতে ভুক্তভোগীরা সোনারগাঁও থানায় মোঃ আনোয়ার হোসেন, ইমাম হোসেন ও কবির হোসেন সহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার ও-ই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে, আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply