
জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলের ফাইনালে বিতর্ক: প্লেয়ার বাছাইয়ে পক্ষপাতিত্ব ও বয়স ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ মাগুরার
শামীম শেখ, স্টাফ রিপোর্টার
ঝিনাইদহের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্লেয়ার বাছাই ও বয়স যাচাই নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ব্যবস্থাপনায় এবং জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ), ঝিনাইদহের আয়োজনে বুধবার (১৭ জুন) এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নারায়ণ চন্দ্র পাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সাইফুল ইসলাম মধু এবং জেলা রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. আবদুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন ডিএফএ ঝিনাইদহের সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আহসানুজ্জামান ঝন্টু। সঞ্চালনায় ছিলেন ডিএফএ ঝিনাইদহের সাধারণ সম্পাদক তোহিদুল ইসলাম সংগ্রাম। এছাড়াও মাগুরা ডিএফএ-এর সদস্য আব্দুর রহিম উপস্থিত ছিলেন।
নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে না পারায় ট্রাইবেকারে ঝিনাইদহ দল ৩-১ ব্যবধানে জয় লাভ করে। তবে ম্যাচ শেষে বাফুফের সিলেক্টর শেখ আশরাফুল হোসেনের বিরুদ্ধে প্লেয়ার বাছাইয়ে পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন মাগুরা দলের কর্মকর্তারা ও অভিভাবকরা। তাদের দাবি, মাগুরা দলের দুইজন প্রতিভাবান ফুটবলারকে মাঠে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শুধুমাত্র “দেখতে লম্বা” হওয়ার অজুহাতে তাদের অনূর্ধ্ব-১৪ প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। অথচ ওই দুই খেলোয়াড়ের জন্ম নিবন্ধন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদপত্র অনুযায়ী তাদের প্রকৃত বয়স মাত্র ১৩ বছর।
অভিযোগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাঠে উপস্থিত হওয়ার পর খেলোয়াড়দের শারীরিক গঠন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অথচ আগেই তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করার সুযোগ ছিল। এর ফলে প্রকৃত বয়সের খেলোয়াড়রাও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহ দলের এক খেলোয়াড়কে ঘিরেও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনূর্ধ্ব-১৭ বয়সসীমার এক খেলোয়াড় ‘তানজিয়া’ নামে অনূর্ধ্ব-১৪ দলে অংশ নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে মাঠে উপস্থিত বিভিন্ন দলের কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়। যদিও এ বিষয়ে আয়োজক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মাগুরা দলের সংশ্লিষ্টরা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “যদি বয়স যাচাইয়ের জন্য জন্ম নিবন্ধন, একাডেমিক সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে শুধুমাত্র শারীরিক উচ্চতা দেখে খেলোয়াড় বাদ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে প্রতিভাবান ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হচ্ছে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাঠে উপস্থিত ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ভবিষ্যতে এ ধরনের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাফুফের সিলেক্টর শেখ আশরাফুল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা মনে করছেন, বয়সভিত্তিক ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো মেধাবী খেলোয়াড় খুঁজে বের করা। তাই প্লেয়ার নির্বাচন ও বয়স যাচাইয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের কর্মসূচির গ্রহণযোগ্যতা ও উদ্দেশ্য বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়বে।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply