
মহাশ্মশানের জায়গা দখলের চেষ্টা: মাসুদ রানার বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ গাইবান্ধাবাসী,
গাইবান্ধা পৌর মহাশ্মশানের জায়গা দখলের চেষ্টা এবং শ্মশান কমিটির সভাপতি রবিন সেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার (তারিখ যুক্ত করতে পারেন) গাইবান্ধায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানা যায়, পৌর এলাকার জুম্মাপাড়ায় অবস্থিত এই মহাশ্মশানের জায়গাটি সম্প্রতি রাতের অন্ধকারে দখলের চেষ্টা করে স্থানীয় ভূমিদস্যু মাসুদ রানা ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে রাতেই শ্মশান কমিটির সভাপতি রবিন সেন সেখানে উপস্থিত হলে সন্ত্রাসীরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরদিন সদর থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এখন পর্যন্ত তা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের এমন নীরবতায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এরই প্রতিবাদে শনিবার গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে মানববন্ধন করে পৌর শ্মশান কমিটি। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক এবং নানা শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে শ্মশান কমিটির সভাপতি রবিন সেনের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন প্রসাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন— সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের সদর উপজেলা আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক জাভেদ হোসেন, সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও লালচান বিশ্বাস সুমন।
এছাড়া আরও বক্তব্য দেন সনাতন সংঘের সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র দাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল সাহা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ঐক্য ফ্রন্টের বিপুল চন্দ্র দাশ, বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি সুমন চক্রবর্ত্তী, কালী মন্দির কমিটির রঞ্জন সাহা এবং পৌর মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক সরকার প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সদর থানায় মামলা গ্রহণ করে অভিযুক্ত ভূমিদস্যু মাসুদ রানা ও তার পালিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় গাইবান্ধাসহ গোটা উত্তরাঞ্চলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply