
মাধবপুরে অফিস সহায়ক আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতি ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ—প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেই কেন?
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুরে অফিস সহায়ক মো. আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে একদিকে স্ত্রীকে দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে সরকারি দায়িত্ব পালনে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা না হওয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে আব্দুল করিমের সঙ্গে নাদিরা বেগমের বিয়ে হয়। নাদিরার অভিযোগ, ২০১৬ সাল থেকে আব্দুল করিম বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় তিনি বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা এনে স্বামীকে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
সর্বশেষ ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আব্দুল করিমসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাঁকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেন নাদিরা। ঘটনার পর তিনি গুরুতর মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে ক্ষতিকর পদার্থ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে তাঁর অভিযোগ। পরে স্বজনরা তাঁকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করান।
বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করলেও নাদিরা ও তাঁর সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, আব্দুল করিম ও তাঁর স্বজনরা তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন।
শিক্ষা অফিসেও দীর্ঘ অনুপস্থিতির অভিযোগ
অন্যদিকে, আব্দুল করিম মাধবপুর শিক্ষা অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত থাকলেও গত আনুমানিক ৫ থেকে ৬ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরকারি দায়িত্ব পালনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে বিষয়টি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর জানানো/রিপোর্ট করা হলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষা অফিসকেও বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশ্ন—কর্তৃপক্ষের নীরবতার কারণ কী?
একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ থাকে এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের পক্ষ থেকেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়ে থাকে, তাহলে কেন এখনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
আর একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি স্ত্রী নির্যাতন, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগও থাকে, তাহলে অভিযোগগুলো আলাদাভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, আব্দুল করিম তাঁর সরকারি চাকরির পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
তদন্তের দাবি
সচেতন মহলের প্রশ্ন, মাসের পর মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও কীভাবে একজন সরকারি কর্মচারী চাকরিতে বহাল রয়েছেন? তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়ে থাকলে সেই রিপোর্টের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে নাদিরা বেগমের লিখিত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত, চিকিৎসার নথি যাচাই, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন জরুরি। কারণ অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একটি পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা নয়; এর সঙ্গে একজন সরকারি কর্মচারীর দায়িত্বে অনুপস্থিতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও জবাবদিহিতার প্রশ্নও জড়িত।
Leave a Reply