
সামনের সপ্তাহে বিয়ে।হবু স্ত্রী নয়নাকে নিয়ে কসমেটিকস কিনতে মার্কেটে গেলো সুজন।নয়নাকে বললো
” আপনার প্রয়োজনীয় যা যা লাগে নিন ”
নয়না নেইলপলিশ দিয়ে কেনা শুরু করলো।দুই তিনটা কিনে সুজনের দিকে তাকিয়ে বললো
” বাজেট কিরকম? ”
মধ্যেবিত্ত সুজন কিছুটা ঘাবড়ে গেলো।সে ছোট থেকে বড় হয়েছে কখনো বাজেট দেখে কেনাকাটা করেনি।বাজেট শুনে যে কেনাকাটা করা যায় সেটাই তার ধারণায় ছিলো না।তার যতটুকু প্রয়োজন, না হলেই নয় সেটাই নেয়।মা দুইটা শাড়িতেই বছর পার করে দিতো।বাবা,ভাই নেহাত প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া বাড়তি টাকা নষ্ট কষ্ট করতেন না।অভাবী সংসার যাকে বলে।
সুজন বললো ” বাজেট নিয়ে ভাবতে হবে না।আপনার মন মতো কিনুন ”
নয়না সুজনের কথায় মুচকি হেসে হাত উঁচিয়ে দোকানদারকে একের পর এক কসমেটিকস দেখিয়ে দিতে লাগলো।স্যাম্পু নিলো তিন ধরনের।মুখে মাখার প্রসাধনী প্রায় পনেরো ধরনের।
নয়নাকে যখন দেখতে গেলো ওর ঘরে একটা তিব্বত পাউডার আর একটা স্নোর মিনি প্যাক পরে ছিলো।নেহাতই গরীব পরিবারের।সুজন ভেবেছিলো এই মেয়ে সংসারের অবস্থা বুঝবে।কিন্তু এখন! বাজেট সমস্যা নেই শুনে একই জিনিস চার পাঁচটা করে নিচ্ছে! এই মেয়ে সংসারের দায়িত্বগুলো বুঝবে কি করে!
কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফিরলো সুজন।রাতে নয়নাকে কল করে বললো ” বিয়েটা করতে পারবো না ”
” কি বলছেন! সামনের সপ্তাহে আমাদের বিয়ে! ”
” সমস্যা আছে ”
” সমস্যাটা কি জানতে পারি? ”
এমন সময় মা ঘরে আসলো।নয়নাকে কিছু না বলেই ফোন কে’টে মাকে বললাম ” কি হয়েছে? ”
” মেয়েটার কান্ড দেখেছিস? ”
” কোন মেয়ে? ”
” কোন মেয়ে আবার,তোর সাথে যার বিয়ে ঠিক করেছি ”
” কি করেছে সে? ”
” আমার জন্য,তোর দুই বোনের জন্য কিসব স্নো,পাউডার আরো সাজগোছের কতকিছু পাঠিয়ে দিয়েছে। ওদের দিবে ভালো কথা,আমি ওসব দেই? আমার জন্যও কতকিছু কিনেছে।পাগলি মেয়ে একটা ”
হতচকিত হয়ে বোনদের ঘরে গেলো সুজন।আরেহ!নয়নাকে যেসব কিনে দিয়েছিলো অর্ধেক জিনিস বোনদের পাঠিয়ে দিয়েছে!
সুজন এতক্ষণে বুঝলো নয়না কেনো একটা জিনিস তিন চারটা করে নিয়েছিলো।ভুল বুঝতে পেরে নয়নাকে কল করতেই নয়নার কান্নামিশ্রিত কন্ঠ
” আমার দোষটা কোথায়? ”
বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সুজন।সত্যিই তো,দোষটা কোথায়!পরম শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় সুজনের চোখ ছলছল করে উঠলো।
গল্প #ভ্রান্তি
লেখক #জয়ন্ত_কুমার_জয়
সামাজিক রোমান্টিক গল্প পেতে পেজটা ফলো করে রাখতে পারেন।এইটা লেখকের নিজস্ব পেজ 🤍
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply