
🚨 সৌদি আরবে ২৫০ বিলিয়ন ডলারের মহাযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে… বাংলাদেশ কি এবার ট্রেনে উঠবে, নাকি প্রতিবারের মতো স্টেশনেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ট্রেন চলে যেতে দেখবে?
শুনতে পাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী বিদেশ সফর সৌদি আরব—বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। তবে এবারের সফরকে আমি কোনোভাবেই সাধারণ সৌজন্য সফর হিসেবে দেখছি না। কারণ, আলোচনার টেবিলে এবার শুধু ফুল আর শুভেচ্ছা নয়… আছে বিলিয়ন ডলারের মেগা ডিল!
বন্দর ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব বাংলাদেশে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী। এর পাশাপাশি রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল নতুন বে টার্মিনাল নির্মাণে আরও প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে।
যুবরাজের ইতিবাচক আমন্ত্রণেই প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফরে সম্মতি—আর এই সফরেই হয়তো বড় বড় বিনিয়োগের বিষয়গুলো পাকাপোক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
কিন্তু ভাইরে ভাই… আসল গল্পটা এখানেই শেষ নয়!
আসল মাস্টারস্ট্রোক হতে পারে ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ!
সৌদি আরব ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। আর এই বিশ্বকাপকে ঘিরে যে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে, সেটার পরিমাণ শুনলে চোখ কপালে উঠবে—প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের মেগা ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটি!
মরুভূমির বুকে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে দানবীয় উন্নয়নযজ্ঞ।
তৈরি হচ্ছে ১৫টি বিশ্বমানের স্টেডিয়াম
১৩২টি অত্যাধুনিক প্র্যাকটিস ভেন্যু
শত শত ফাইভ-স্টার হোটেল
বিমান চলাচল ও পরিবহন খাতে বিশাল সম্প্রসারণ
প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও হসপিটালিটি খাতে নতুন নতুন সুযোগ
এখন প্রশ্ন হলো—এই বিশাল বাজারটা কে ধরবে?
পাকিস্তান কিন্তু ইতোমধ্যে মাঠে নেমে গেছে। পর্যটন, আবাসন ও হসপিটালিটি সেক্টরকে টার্গেট করে তারা সৌদিতে লাখ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এমনকি শুধু এই বাজার ধরার জন্য হাজার হাজার তরুণকে সফট স্কিলস ও আইটি ট্রেনিং দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ভারতও বসে নেই। তারা অনেক আগেই দক্ষ জনশক্তির বাজার ধরার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।
আর আমরা?
আমরা যুগের পর যুগ সৌদিতে মানুষ পাঠিয়েছি মূলত শারীরিক শ্রমনির্ভর কাজে। যেখানে পরিশ্রম বেশি, ঝুঁকি বেশি… কিন্তু দিনশেষে আয় তুলনামূলক কম।
কিন্তু এবার কি আমরা আমাদের পুরোনো কৌশল বদলাতে পারি না?
আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রীর এই সৌদি সফর বাংলাদেশের জন্য একটা গেম চেঞ্জার মুহূর্ত হতে পারে। সরকার যদি এখনই দূরদর্শী একটি অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে G2G নেগোসিয়েশনে যায়, তাহলে ২০৩৪ বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিশাল শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় অংশ দখল করতে পারে।
আমাদের এখন শুধু শ্রমিক পাঠানোর চিন্তা করলে হবে না। আমাদের ভাবতে হবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে।
হোটেল ও ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট
ট্রান্সপোর্টেশন ও এভিয়েশন
স্বাস্থ্যসেবা ও নার্সিং
তথ্যপ্রযুক্তি
সাইবার সিকিউরিটি
ইঞ্জিনিয়ারিং
হসপিটালিটি ও কাস্টমার সার্ভিস
এসব খাতে বাংলাদেশি তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করতে হবে।
দেশ থেকে মানুষ পাঠানোর আগে ট্রেনিং দিতে হবে, সার্টিফিকেশন দিতে হবে, ভাষা শেখাতে হবে, কাজের মান শেখাতে হবে।
সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে যদি বাংলাদেশ এখন থেকেই সৌদির এই বিশাল কর্মবাজারে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে ২০৩৪ বিশ্বকাপ শুধু সৌদির অর্থনীতির জন্য নয়—বাংলাদেশের রেমিট্যান্স, কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তির জন্যও হতে পারে এক বিশাল সুযোগ!
সত্যি কথা বলতে, সুযোগ আমাদের সামনে দরজায় এসে দাঁড়িয়ে আছে।
এখন শুধু সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকব, নাকি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অন্য দেশগুলোকে সুযোগটা নিয়ে যেতে দেখব?
#Rekha
#Bangladesh
#saudiarabia
© All rights reserved © 2025
Leave a Reply